আজকাল ওয়েবডেস্ক: মতুয়া 'উদ্বাস্তুদের' ভারতবর্ষের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে৷ সমস্ত অধিকার দেওয়া হবে৷ একজন ভারতবর্ষের নাগরিক যা যা অধিকার পায় সবই তাঁরা পাবেন৷ রাজ্যের দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রবিবার গাইঘাটার ঠাকুরনগর মতুয়া ঠাকুর বাড়িতে জনসভায় এসে মতুয়াদের পাশে টানার চেষ্টায় এভাবেই খতিয়ান দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷
সম্প্রতি এসআইআর প্রক্রিয়ায় বনগাঁ মহকুমার চার বিধানসভা-সহ বহু মতুয়া ভক্তের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। মতুয়াদের একটা বড় অংশ এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মতুয়াগড়ে এসে নির্বাচনী জনসভা থেকে মতুয়াদের সেই ক্ষোভের আগুনে প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা করলেন।
পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, "মমতা ব্যানার্জি এবং তৃণমূল সিএএএর বিরোধিতা করেছিল। ওদেরকে ভোট দেবেন না৷" একইসঙ্গে তিনি ২০১৯ সালে ঠাকুরবাড়িতে এসে বড়মার আশীর্বাদ নিয়েছিলেন বলেও জানান ৷ বাংলাদেশের ওড়াকান্দিতে মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে যাওয়ার কথাও এদিন উল্লেখ করেছে প্রধানমন্ত্রী ৷ তবে মতুয়ারা হতাশ। জানা গিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তাঁরা অনেকেই আজ উপস্থিত ছিলেন৷ মোদির কাছ থেকে এ বিষয়ে 'গ্যারান্টি' না পেয়ে যারপরনাই ক্ষুব্ধ এবং হতাশ সবাই।
এদিন অনুপ্রবেশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "অনুপ্রবেশ করে যাঁরা অন্যায় ভাবে ভারতবর্ষে ঢুকেছেন, ভোট গণনার আগে তাঁরা চলে যান। না হলে ৪ মে ভোট গণনার পরে সব অনুপ্রবেশকারীকে তাড়ানো হবে। তৃণমূল আপনাদের বাঁচাতে পারবে না।"
প্রধানমন্ত্রী এদিন আরও বলেন, "প্রথম দফার ভোটে তৃণমূলের অহংকার চূর্ণ হয়ে গিয়েছে। এখনও দ্বিতীয় দফার ভোট বাকি রয়েছে। তৃণমূল আর থাকছে না। বিজেপি সরকার আসছে। আপনারা দেখেছেন ১৫ বছর আগে তৃণমূল মা মাটি মানুষের কথা বলত। এখন আর ওদের মুখে মা মাটি মানুষের কথা শোনা যায় না। কারণ কী? আমি বলছি, ওরা মা মাটি মানুষের কথা বললে ওদের পাপের কথা সবাই জেনে যাবে। ওরা মাকে কাঁদিয়েছে। মাকে সিন্ডিকেট আর অনুপ্রবেশকারীদের হাতে তুলে দিয়েছে। আর বাংলার মানুষকে পালাতে বাধ্য করেছে। তৃণমূলের ছোট ছোট নেতারা নিজেদের সরকার ভাবতে শুরু করেছেন।"
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যের বিষয়ে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতা ঠাকুর বলেন, "উনি নাগরিকত্বের যে গ্যারান্টি দিয়ে গেলেন সেটা আসলে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর গ্যারান্টি দিয়ে গেলেন৷ মতুয়ারা এর জবাব দেবেন৷ প্রচুর মতুয়া উদ্বাস্তুদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে এখন গ্যারান্টি দিয়ে গেলেন৷ পরেরবার এসে উনি সকলকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাবেন৷" কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুর বলেন, "প্রধানমন্ত্রী নিজে গ্যারান্টি দিয়েছেন এর থেকে আনন্দের বিষয় আমাদের কাছে আর কিছু হতে পারে না।"















