আজকাল ওয়েবডেস্ক: বেনিয়ম চলছে ফর্ম ৬-এর আবেদনপত্র নিয়ে। মমতা-অভিষেক সরব হয়েছেন আগেই। এবার কড়া নিন্দা মহুয়া মৈত্রের। ভিডিও বার্তায় একহাত নিলেন নির্বাচন কমিশনকে, কটাক্ষ বিজেপিকেও। 

কী বললেন মহুয়া? এদিন তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে এক বার্তায় বলেন, 'গত দু'দিন ধরেই বাংলার মানুষ দেখতে পাচ্ছে কীভাবে বিজেপি নির্বাচন কমিশনের সাহায্যে বাংলার মানুষের ভোটাধিকার  লুঠ করার চেষ্টা করছে। খুল্লামখুল্লা, সবার চোখের সমানে চোর-ডাকাতি করে ভোট চুরি করার চেষ্টা করছে। কাল আমরা দেখেছি, হাজার হাজার ফর্ম ৬ জমা পড়েছে সিইও অফিস, কলকাতায়।' 

মহুয়ার বক্তব্য, ফর্ম ৬ এভাবে সিইও দপ্তরে জমা পড়তে পারে না। তিনি বলেন, 'ফর্ম ৬-এর নিয়ম, নতুন ভোটার আবেদন অনালাইনে জমা দেবেন কিংবা কোনও দলের বিএলএ ২  সর্বাধিক ৫০টি ফর্ম জমা দিতে পারেন বিএলও'র মাধ্যমে। এর বাইরে আর কোনও উপায় নেই। হাজার হাজার মানুষ সরাসরি গিয়ে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে জমা দিতে পারেন না। এটা চুরি, ডাকাতি।'

বিচারাধীন ভোটারদের জন্য সুপ্রিম নির্দেশ, ট্রাইবুন্যাল প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মহুয়া। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, সোমবার অভিষেক ব্যানার্জি টুইট করে ফর্ম ৬ নিয়ে বিরাট অভিযোগ করেন। লেখেন, ''আমরা বিভিন্ন জেলা থেকে নির্ভরযোগ্য খবর পাচ্ছি যে বিপুল সংখ্যক ফর্ম ৬ (নতুন ভোটার) আবেদনপত্র সন্দেহজনক পদ্ধতিতে জমা দেওয়া হচ্ছে। এগুলো সাধারণ সংযোজন নয়। গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে যে এগুলির মধ্যে এমন অনেকব্যক্তিদের যোগ থাকতে পারে, যাঁদের বাংলার সঙ্গে কোনও প্রকৃত সম্পর্ক নেই—এখানে বসবাসও করেন না, এখানে কাজ করেন না এবং যাঁদের কোনও যোগ নেই এই রাজ্যের কোনও স্বার্থের সঙ্গেই।'  নিজে বিকেলে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে যান। সেখান থেকে বেরিয়ে বলেন, ''কমিশন বলছে ৩০ হাজার ফর্ম ৬ জমা পড়েছে। তাহলে কমপক্ষে ৬০০ জনকে উপস্থিত হতে হয়। আমরা ২৪ ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনতে বলেছি। আমরা যে দাবি জানিয়েছি, তার কোনও সদুত্তর ছিল না।' 

মঙ্গলবার এই ইস্যুতে জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লেখেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। তিনি সেই চিঠি পোস্ট করেন সমাজ মাধ্যমে। মমতা লেখেন, 'বাংলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের বিরুদ্ধে যে গুরুতর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে আমি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখেছি। অনিবাসী এবং বহিরাগতদের বাংলার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজার হাজার জাল ফর্ম ৬ আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় বিজেপির এজেন্টরা হাতে-নাতে ধরা পড়েছে। এটি ভোটার অপহরণের একটি প্রচেষ্টা, ঠিক সেই নোংরা খেলা যা বিজেপি মহারাষ্ট্র এবং দিল্লিতে সফলভাবে খেলেছে।' 

সঙ্গেই মমতা লিখেছেন, 'যেখানে ৬০ লক্ষেরও বেশি প্রকৃত ভোটারের নাম বিচারাধীন রয়েছে এবং ত্রুটিপূর্ণ এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে ইতোমধ্যে ২০০ জনেরও বেশি প্রাণহানি ঘটেছে, সেখানে নির্বাচন কমিশন এখন সন্দেহজনকভাবে বন্ধ দরজার পিছনে এই বিপুল সংখ্যক জাল আবেদনপত্র দ্রুত নিষ্পত্তি করতে ব্যস্ত। এটি কেবল বেআইনি এবং মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধেই নয়, বরং বাংলায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের উপর একটি সরাসরি আঘাত।'

সোমবারের পর, মঙ্গলেও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ চলছে। একদিকে তৃণমূলের সমর্থক, অন্যদিকে, গেরুয়া শিবিরের সমর্থকেরা উপস্থিত হয়েছেন। তুলুকালাম পরিস্থিতি দপ্তরের সামনে।