আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর আমিই 'কিং মেকার' হতে চলেছি! বৃহস্পতিবার এমনই ঘোষণা করলেন 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। এর পাশাপাশি তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, মুর্শিদাবাদ জেলার যে দু'টি বিধানসভা আসন থেকে- রেজিনগর এবং নওদা- তিনি লড়াই করেছিলেন সেই দু'টি আসনেই তাঁর জয় নিশ্চিত। তবে নওদা আসনটি তিনি ধরে রাখলেও রেজিনগরের আসন থেকে পদত্যাগ করবেন। 

হুমায়ুনের 'পাখির চোখ' যে আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন তাও আজ পরিষ্কার করে দিয়েছেন। ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি নওদার বিধায়ক থাকলেও, আগামী লোকসভা নির্বাচনে তিনি 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র প্রতীকে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সেখান থেকে জয়ী হবার পর নওদা বিধানসভা কেন্দ্র থেকেও পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন৷ 
 
তবে নওদা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পদত্যাগ করার পর তাঁর জায়গায় সেখানে কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তা খোলসা করেননি তিনি। তবে হুমায়ুন আজ জানিয়ে দিয়েছেন তাঁর ইচ্ছে রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পদত্যাগ করার ৬ মাসের মধ্যে নিজের ছেলে গোলাম নবী আজাদ রবিনকে ওই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিয়ে জিতিয়ে আনা। 

আজ হুমায়ুন বলেন,"বিধানসভা নির্বাচনে নওদার মানুষ যে আবেগ এবং ভালোবাসা আমার জন্য দিয়েছে সেই কারণে আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ। সেই আবেগকে সম্মান জানিয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ভোটের ফল প্রকাশের পর নওদা থেকেই আমি বিধায়ক পদ ধরে রাখব। রেজিনগরের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে আমি ডেকে তাঁদের আমি বুঝিয়ে বলব। আমার ছেড়ে যাওয়া ওই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে আমার ছেলে, রবিন।  আমি তাঁকেও জিতিয়ে রাজ্য বিধানসভার সদস্য করব। "

তবে হুমায়ুন জানাতে ভোলেননি তাঁর আসল লক্ষ্য ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন। তিনি বলেন," বহরমপুর লোকসভার অন্তর্গত ভরতপুর, কান্দি , রেজিনগর, নওদা এবং বেলডাঙা বিধানসভা আসন থেকে ২০১৯ -এর লোকসভা নির্বাচনে আমিই 'লিড' পাব। "

হুমায়ুন কবীর আজ দাবি করেছেন," আগামী ৪ মে নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ হলে দেখা যাবে কোনও রাজনৈতিক দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না।  বিজেপি সর্বোচ্চ ১৩০ টি আসন পেতে পারে ,তৃণমূল কংগ্রেস ১১০ টি। অন্যদিকে আমার নতুন রাজনৈতিক দল কমপক্ষে দুই সংখ্যার আসন পাবে। বাকি কোন রাজনৈতিক দল ক'টি আসন পাবে সে সম্পর্কে আমি নিশ্চিত নই।"


 
হুমায়ুন আজ দাবি করেন," রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আমার রাজনৈতিক দলই 'কিং মেকারের' ভূমিকা পালন করবে। তবে আমার ধারণা আগামী ৭ মে-র মধ্যে কোনও রাজনৈতিক দলই রাজ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে শপথ গ্রহণ করতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে রাজ্যে এক মাসের মত রাষ্ট্রপতি শাসনও জারি থাকতে পারে।"
 
হুমায়ুন আজ আরও বলেন," কোনও রাজনৈতিক দল যদি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায় সেক্ষেত্রে আমি চাইব রাজ্যপাল যাতে কাউকেই  তাড়াহুড়ো করে শপথ গ্রহণের জন্য না ডাকেন। কিছুটা সময় যেন সমস্ত রাজনৈতিক দলকেই দেওয়া হয় কে কোন দলকে সমর্থন করবে তা নিয়ে ভাবার জন্য।"
 
তবে 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র চেয়ারম্যান আজ দাবি করেন," আমাকে বিজেপির 'বি' টিম বলা হলেও আমার সন্দেহ ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অনেক হিন্দু বিধায়কই দ্রুত দল পরিবর্তন করে বিজেপিতে যোগদান করবেন। তবে আমি এখনই বলছি না আমি কোন দলকে আমার সমর্থন দেবো "