বিভাস ভট্টাচার্য 

খবরটা অবাক করেছিল অনেককেই। বালি বিধানসভার বিদায়ী তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ডাঃ রানা চ্যাটার্জিকে যখন দল আসন পরিবর্তন করে শিবপুর বিধানসভায় এবারের প্রার্থী করল। বালিতে ভূমিপুত্র পরিচয় ছাড়াও তাঁর আরেকটি পরিচয় হল বিশিষ্ট শিশু চিকিৎসক হিসেবে। এই পরিচয়েই তিনি বেশি পরিচিত। বিধায়ক হওয়ার পর চেষ্টাও চালিয়েছেন এলাকার উন্নয়ন নিয়ে‌। কিন্তু এবার যেহেতু শিবপুর, তাই সেখানেও স্থানীয় নেতা-কর্মী নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। 

কিন্তু এভাবে হঠাৎ করে জেতা জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়া? কোথাও কি অভিমান আছে শিবপুরের এই তৃণমূল প্রার্থীর? প্রশ্নটা শুনেই দু'দিকে মাথা নেড়ে চওড়া হাসি রানার। বললেন, "একেবারেই নয়। বরং দল আমাকে শিবপুরের মতো এত ভালো একটা জায়গায় সুযোগ দিয়েছে তার জন্য আমি দলের প্রতি কৃতজ্ঞ।" যে কোনও বিধায়কই চেষ্টা করেন তাঁর কেন্দ্রকে পরের বারের জন্য তৈরি করে রাখতে। সেটা সাংগঠনিক দিক দিয়েই হোক বা এলাকায় উন্নয়নের কাজের মাধ্যমে হোক। আপনিও সেভাবেই এগিয়েছিলেন। সেখান থেকে দুম করে এই 'বাস্তুচ্যুত'। বালিতে এটা নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। মুখের কথা কেড়ে নিয়েই রানার জবাব, "দেখুন বালির মানুষের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তাঁদের প্রতি ভালোবাসা আমার হৃদয়ে আছে এবং সেটা সারাজীবনই থাকবে। কিন্তু দল মনে করেছে আমাকে দিয়ে শিবপুরেও কাজ হবে। আমি দলের সৈনিক এবং দলের আদেশ আমার কাছে শিরোধার্য।" কিন্তু যেই কাজগুলো ভেবে রেখেছিলেন সেগুলো এবার কী হবে? রানার কথায়, "কাজ কাজের মতোই এগোবে। সমস্ত কাজেরই কাগজপত্র প্রস্তুত। নির্বাচন শেষ হলেই সেগুলো শুরু হয়ে যাবে। এর পাশাপাশি আরেকটা কথাও জানাতে চাই যে শিবপুর বিধানসভার জন্যও আমার পরিকল্পনা প্রস্তুত।" 

এই কেন্দ্রে 'তোলাবাজি'র একটা বড় অভিযোগ শোনা যায়। লোকের অভিযোগ, এখানে কিছু করতে গেলে টাকা 'ছাড়া' না কি করা যায় না। অভিযোগ ওঠে এই তোলাবাজির সঙ্গে স্থানীয় শাসক দলের কেউ কেউ জড়িত। আপনি কি মনে করেন এই বিষয়গুলো আপনার জয়ের পথে একটা 'চ্যালেঞ্জ' হতে পারে? একটুও না ভেবে রানার উত্তর, "দেখুন আমাদের ভোট হয় মমতা ব্যানার্জিকে দেখেই। আমি তাঁর প্রতিনিধি। মমতা ব্যানার্জির সততা নিয়ে কেউ কোনদিনও প্রশ্ন তুলতে পারবেন না। গত পাঁচ বছরে আমার বিরুদ্ধেও কেউ এই অভিযোগ তুলতে পারেননি। ফলে আমার মনে হয় না এটা কোনও সমস্যা হবে। আমি নিশ্চিত এখানকার ভোটাররা তাঁদের আশীর্বাদের হাত আমার মাথায় রাখবেন।" স্টেথোস্কোপ বুকে বা পিঠে ঠেকিয়ে আপনি শিশুদের রোগ ধরেন। এখানে আপনার স্টেথোতে কী ধরা পড়ছে? চিকিৎসকের কথায়, "মানুষের চোখ দেখেই বুঝতে পারছি তাঁরা আমাকে খুব ভালোভাবেই গ্রহণ করেছেন। ফলে জয়ের বিষয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী। হ্যাঁ, এটাও ঠিক পরিষেবার জন্য কিছু কিছু কাজ যাতে করা হয় সেই বিষয়েও তাঁরা আমায় বলছেন। নিশ্চয়ই আমি সেগুলো করব।" 

আপনার আগের বিধানসভা বালিতে প্রায়ই একটা বিষয় নিয়ে কথা হত, 'গোষ্ঠীদ্বন্দ'। যতটুকু জানি, চিকিৎসক হয়েও আপনি ওই 'রোগ'-এর নিরাময় করতে পারেননি। শিবপুরে এসেও কি সেই একই রোগের ওষুধ খুঁজে যাচ্ছেন? কিছুটা নড়েচড়ে বসে এই শিশু চিকিৎসক জানালেন, "রাজনীতির ইতিহাস যদি দেখেন তাহলে দেখবেন প্রথমদিন থেকেই এই ইতিহাসে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব শব্দটা জুড়ে আছে। এবার আসি শিবপুরের কথায়। এখানে আসার আগে আমার কাছে টুকটাক গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের খবর আসছিল। কিন্তু এসে দেখলাম সব ছেড়ে কর্মীরা এখন তাঁদের প্রতীক নিয়ে পড়ে রয়েছেন। আমাকে এখান থেকে জিতিয়ে চতুর্থবারের জন্য মমতা ব্যানার্জিকে মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য সকলেই তৎপর।"

শিবপুরের জন্য আপনার প্রথম পরিকল্পনা কী? প্রার্থী জানালেন, "শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জল জমার সমস্যার সমাধান-সহ আমি নয়টি বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছি। এর মধ্যে একটি হল এখানে তিনটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে একটিকে 'স্টেট জেনারেল হসপিটাল' হিসেবে উন্নীত করার বিষয়টি রয়েছে।" 

আপনি শিবপুরে চলে আসার পর বালির শিশুরা কি তাঁদের চিকিৎসককে 'মিস' করবে না?চশমার কাঁচ মুছতে মুছতেই শিবপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী এবং শিশু চিকিৎসক ডাঃ রানা চ্যাটার্জি জানালেন, "না‌। বালিতে যেমন আমি চিকিৎসা করছিলাম সেরকমই করব। শিবপুর থেকে বালি খুব একটা দূরে নয়।"