আজকাল ওয়েবডেস্ক: 'মধ্যরাতে' সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বাংলার মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব দু'জনকেই। বাংলায় ভোট ঘোষণা হওয়ার পরেই, কয়েকঘণ্টায় এই সিদ্ধান্ত জানায় নির্বাচন কমিশন। নন্দিনী চক্রবর্তী, জগদীশপ্রসাদ মিনা, দু'জনকে সরিয়ে দেওয়া হয় বাংলায় মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব পদ থেকে। সোমবার রাজপথে নেমে, এই ইস্যুতে গর্জে উঠেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। তবে এবার, জগদীশপ্রসাদ মিনাকে বাংলা থেকে সরিয়ে, অন্য রাজ্যে পাঠাচ্ছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জগদীশপ্রসাদ মিনাকে তামিলনাড়ুর, তিরুচিরাপল্লির ভোট-পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হচ্ছে। মিনাকে, তিরুচিরাপল্লি (পশ্চিম)-এ ১৮ মার্চের মধ্যে রিপোর্ট করতেও বলা হয়েছে। 

 

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, রবিবার দুপুরে কমিশন ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করার পরেই, রাতে নন্দিনী চক্রবর্তীকে রাজ্যের মুখ্যসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে নিয়োগ করা হয়। পাশাপাশি রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিবকেও সরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। ভোটের মুখে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয় সঙ্ঘমিত্রা ঘোষকে। 

সোমবার, মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর বদলির প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, “বাঙালি মহিলা অফিসারকে সরানো হয়েছে। ওরা নারীবিদ্বেষী।” এরপরই তিনি দাবি করেন, “যাঁদেরই আপনারা পাঠাবেন তাঁরা সবাই আমাদের হয়ে কাজ করবেন। বাংলার হয়ে কাজ করবেন।” রবিবার মধ্যরাতে এই বদলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মধ্যরাতে গুপ্ত তাণ্ডব বিজেপির।” 

 

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, রবিবার বাংলায় ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়েছে। তার ১২ ঘণ্টার আগেই, কমিশন বাংলার মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরিয়ে দেয়। ঠিক তার কয়েক ঘণ্টা পর, ফের বড় বদল প্রশাসনিক স্তরে। পরপর বদলে, রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা। কারণ ভোটের মুখে প্রশাসনিক স্তরে বদল স্বাভাবিক হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে একেবারে ভোট ঘোষণার পরেই, রাজ্যের মুখ্যসচিবকে সরিয়ে দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, অদলবদল করা হয়েছে শীর্ষ পুলিশ পদে। রাজ্য পুলিশের ডিজি ও  কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে বদল করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্য পুলিশের নতুন ডিজি হচ্ছেন সিদ্ধনাথ গুপ্ত। ওই পদে ছিলেন পীযূষ পাণ্ডে। কলকাতার কমিশনার পদ থেকে সরানো হয়েছে রাজ্য সুপ্রতীম সরকারকে। ওই জায়গায় বসানো হল অজয় কুমার নন্দাকে।

এবার সামনে এল আরও বড় রদবদল। এক যোগে ৩০ আমলাকে বদলির নির্দেশ। যদিও এই রদবদল হয়েছে ১৩ তারিখে, অর্থাৎ ১৩ মার্চ। তবে এই বদলের বিজ্ঞপ্তি সামনে এসেছে ১৬ মার্চ। বিজ্ঞপ্তিতে যদিও স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে প্রশাসনিক কাজে গতি আনার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।