আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য  শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতেই বেশ কিছু জায়গায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ প্রকাশ্যে আসছে। পূর্ব বর্ধমানের কালনার মন্তেশ্বর বিধানসভায় রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর নাম প্রকাশিত হওয়ার পর মন্তেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আহমেদ হোসেনের অনুগামী ও সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর অনুগামীদের মধ্যে মঙ্গলবার ব্যাপক সংঘর্ষ হয় বলে জানা গিয়েছে। মন্তেশ্বরের দীর্ঘনগর গ্রামে ঘটা এই ঘটনা পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে  নিয়ন্ত্রণে আসে। এলাকা থমথমে। জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় আহত একজন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর অনুগামী। আহত ব্যক্তিকে মন্তেশ্বর থানার পুলিশ  মন্তেশ্বর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়।

অন্যদিকে নাম ঘোষণার পর দলীয় কার্যালয়ে এসে কালনার মন্তেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী জানান, মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়ে প্রচার করবেন ও জনসংযোগ আরও বেশি করে বাড়াবেন। জেতার বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত বলে তৃণমূল কংগ্রেসের এই প্রার্থী জানিয়েছেন। মঙ্গলবার তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দের ঘটনাটি  নিয়েও মুখ খুললেও একে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলে মানতে রাজি নন  রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী। পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের কোনওরকম প্ররোচনায় পা না দিতে বলেছেন তৃণমূলের এই প্রবীণ নেতা।

 

অন্যদিকে, ভোটের আগে নদীয়ার হরিণঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। প্রার্থী বদলের দাবিতে বিজেপির অন্দরে ক্ষোভ  প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ভূমিপুত্র প্রার্থীর দাবিতে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরা, যা দলের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার কাস্ঠডাঙা বাজারে শতাধিক বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা বিক্ষোভে সামিল হন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ঘোষিত প্রার্থী অসীম সরকারকে এলাকায় খুব একটা দেখা যায় না। তাঁদের দাবি, তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না এবং দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলার পরিবর্তে নিজের মতো করে কাজ করছেন। এতে সংগঠনের ভিত দুর্বল হচ্ছে বলেও মনে করছেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।


এছাড়াও বিক্ষোভে দুর্নীতির অভিযোগও তোলা হয়। অভিযোগ ওঠে, এইমস-এ চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে অনিয়ম হয়েছে এবং এই বিষয়ে প্রার্থীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ কর্মীরা। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে দলীয়ভাবে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি, তবুও বিষয়টি নিয়ে এলাকায় জল্পনা তীব্র হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অবিলম্বে প্রার্থী পরিবর্তন না করা হলে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে নির্দল প্রার্থী দাঁড় করানোর কথাও ভাবা হচ্ছে। 

গোটা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভোটের আগে বিজেপির সংগঠনে ভাঙন আরও প্রকট হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে।