আজকাল ওয়েবডেস্ক: দ্বিতীয় দফা ভোটগ্রহণ বঙ্গে। ভোটগ্রহণ চলাকালীন ইতিমধ্যেই একের পর এক দুর্ঘটনার খবর৷ দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের মটনদিঘি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ভোটের আবহে চরম উত্তেজনা। অভিযোগ, ২৫৭ নম্বর বুথ সংলগ্ন এলাকায় বিজেপি কর্মীদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনায় গুরুতর জখম হন অন্তত ছয়জন বিজেপি কর্মী। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ভোটগ্রহণ চলাকালীনই আচমকা একদল দুষ্কৃতী বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে চড়াও হয়। অভিযোগ, প্রথমে বচসা, পরে তা দ্রুত সংঘর্ষের রূপ নেয়। বিজেপির দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাদের কর্মীদের টার্গেট করে এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা লাঠি, রড ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে বলে অভিযোগ। মুহূর্তে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়ায়৷ অনেক সাধারণ ভোটারও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন।

আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। চিকিৎসকরা তাঁদের পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। ঘটনার পরই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের দিকে আঙুল তুলেছে। তাদের অভিযোগ, ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতেই এই হামলা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, এটি বিজেপির অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৃণমূলের নাম জড়ানো হচ্ছে। তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছে, এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে তারা সবরকম চেষ্টা করছে। তারা জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরু হয় টহলদারি। উত্তেজনা প্রশমনে এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

ভোটের দিনে এই ধরনের হিংসার ঘটনা ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে। সাধারণ ভোটারদের একাংশের বক্তব্য, এ ধরনের ঘটনায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁরা চান শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হোক।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা এলাকায় চলছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কঠোর পদক্ষেপের দাবিও উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।