আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটের আগে নদীয়ার হরিণঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। প্রার্থী বদলের দাবিতে বিজেপির অন্দরে ক্ষোভ  প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ভূমিপুত্র প্রার্থীর দাবিতে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরা, যা দলের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার কাস্ঠডাঙা বাজারে শতাধিক বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা বিক্ষোভে সামিল হন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ঘোষিত প্রার্থী অসীম সরকারকে এলাকায় খুব একটা দেখা যায় না। তাঁদের দাবি, তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না এবং দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলার পরিবর্তে নিজের মতো করে কাজ করছেন। এতে সংগঠনের ভিত দুর্বল হচ্ছে বলেও মনে করছেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।


এছাড়াও বিক্ষোভে দুর্নীতির অভিযোগও তোলা হয়। অভিযোগ ওঠে, এইমস-এ চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে অনিয়ম হয়েছে এবং এই বিষয়ে প্রার্থীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ কর্মীরা। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে দলীয়ভাবে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি, তবুও বিষয়টি নিয়ে এলাকায় জল্পনা তীব্র হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অবিলম্বে প্রার্থী পরিবর্তন না করা হলে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে নির্দল প্রার্থী দাঁড় করানোর কথাও ভাবা হচ্ছে। 

গোটা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভোটের আগে বিজেপির সংগঠনে ভাঙন আরও প্রকট হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে।
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, বিজেপির অন্দরের এই কোন্দলই প্রমাণ করে যে দলটি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল। তৃণমূল নেতাদের মতে, এই ধরনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নির্বাচনে তাদেরই সুবিধা করে দেবে এবং বিজেপি আরও কোণঠাসা হয়ে পড়বে।
সব মিলিয়ে, প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ, বিক্ষোভ এবং পাল্টা রাজনৈতিক কটাক্ষ—এই সবকিছুর জেরে হরিণঘাটার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।