আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে দ্বিতীয় দফা ভোটগ্রহণ আগামী বুধবার। ২৯ এপ্রিল। জেলায় জেলায় চলছে প্রচার। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনের আগে শেষ প্রচার। প্রচারের মধ্যেই এক চমকপ্রদ ঘটনার সাক্ষী থাকলেন সাধারণ মানুষ। বিজেপি প্রার্থী অবনী নস্করের প্রচারে আচমকাই হাজির হল একটি হনুমান। ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও চর্চা।

সূত্রের খবর, প্রচারের আগে নিয়মমাফিক পুজো সেরে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন প্রার্থী ও তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা। ঠিক সেই সময় হঠাৎ কোথা থেকে একটি হনুমান এসে উপস্থিত হয় এবং নির্ভয়ে তাদের মাঝে বসে পড়ে। উপস্থিত সকলে প্রথমে কিছুটা হতবাক হয়ে গেলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। দলের এক কর্মী স্নেহভরে হনুমানের কপালে সিঁদুর পরিয়ে দেন। তার গায়ে উত্তরীয় জড়িয়ে দেন।

জানা গিয়েছে, পুরো সময়টাতে হনুমানটি শান্ত ও নির্বিকার ছিল। কাউকে আক্রমণ করার কোনও চেষ্টা করেনি। শুধু চারপাশে তাকিয়ে পরিস্থিতি লক্ষ্য করছিল। পরে মিছিল শুরু হলে বাজনার শব্দে হনুমানটি প্রথমে একবার চমকে উঠলেও দ্রুতই শান্তও হয়ে যায়। 

জানা গিয়েছে, নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তাকে একটি দড়ি দিয়ে আলতোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়, যাতে সে ভয়ে কাউকে আঘাত না করে। এমনকী পরবর্তীতে তাকে একটি সাইকেলের সামনে বসিয়ে মিছিলের সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়। পুরো মিছিল জুড়েই হনুমানটি চুপচাপ বসে থেকে যেন প্রচারের অংশ হয়ে ওঠে। এই দৃশ্য দেখতে কার্যত ভিড় জমায় বহু কৌতূহলী মানুষ।

ঘটনাকে ঘিরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রবল উচ্ছ্বাস দেখা যায়। অনেকেই এটিকে ‘শুভ সংকেত’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। তাঁদের মতে, হনুমান 'শক্তি' ও 'বিজয়ের' প্রতীক। ফলে এই উপস্থিতি নির্বাচনের আগে একপ্রকার ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

তবে এই বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি প্রার্থী অবনী নস্কর। তিনি বরং নিজের জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করে বলেন, “মানুষের সমর্থনই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আগামী দু’দিন পর ফল প্রকাশের দিনই শেষ হাসি হাসব।”

প্রসঙ্গত, প্রচারপর্বের শেষ লগ্নে তিনি আরও জোরদারভাবে জনসংযোগে নেমে পড়েছেন। কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে কখনও পায়ে হেঁটে, কখনও গাড়িতে করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছেন ভোটারদের কাছে। এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে তিনি নিজের উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন। মানুষের আশীর্বাদ কামনা করছেন।

অনেকেই বলছেন, হনুমানের এই অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি কুলপির নির্বাচনী প্রচারে এক অন্যরকম মাত্রা যোগ করেছে। রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।