আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফরাক্কা বিধানসভা আসন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিট না পেয়ে দলের বিরুদ্ধে 'বিদ্রোহ' ঘোষণা করলেন তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম। মঙ্গলবার কালীঘাট থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি দলের প্রার্থীদের যে তালিকা ঘোষণা করেছেন তাতে ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলামের নাম নেই। তাঁর পরিবর্তে ফরাক্কা আসনে তৃণমূল টিকিট দিয়েছে সামশেরগঞ্জের বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক তথা জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা আইএনটিটিইউসির সভাপতি আমিরুল ইসলামকে।
তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিট না পেয়ে মনিরুল ইসলাম দাবি করেছেন, এসআইআর আন্দোলন করার জন্য তাঁকে 'বলির পাঁঠা' করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলার অন্যতম পরিচিত বিড়ি ব্যবসায়ী মনিরুল ২০২১ সালে প্রথমবার ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। তার আগে প্রায় ২৫ বছর ওই কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের প্রতীকে মইনুল হক জয়ী হয়েছেন।
২০২১-এর নির্বাচনে মনিরুল ইসলাম প্রথমবার ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের খাতা খুলতে সক্ষম হন। মনিরুল আশা করেছিলেন এ বছর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকেই টিকিট দেবে। তৃণমূলের টিকিট না পেয়ে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে দলের বিরুদ্ধেই 'বিদ্রোহ' ঘোষণা করে বসলেন এই বিধায়ক।
মনিরুল ঘোষণা করেছেন, শুধুমাত্র ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্র নয় তাঁর পরিবারের অন্য এক সদস্য সামশেরগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সূত্রের খবর মনিরুলের দাদা কাউসার আলি সামশেরগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছেন।
তবে সাংবাদিকদের শত প্রশ্নেও মনিরুল ইসলাম খোলসা করতে রাজি হননি কোন দলের প্রতীকে তিনি ফরাক্কা বিধানসভা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছেন। এর উত্তর খুব তাড়াতাড়ি পাওয়া যাবে বলে মনিরুল জানিয়েছেন।
মনিরুল ইসলাম বলেন, "তৃণমূল দল আমাকে টিকিট না দিলেও বিধানসভা নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত তৃণমূলের বিরুদ্ধে আমার এক প্রতিবাদ। আমার পাশে ফরাক্কার বেশিরভাগ মানুষ যে রয়েছে তা এই নির্বাচনেই বুঝিয়ে দেব।"
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ফরাক্কা এবং সামশেরগঞ্জ বিধানসভায় কেন্দ্রে 'খেলা হবে' দাবি করে মনিরুল বলেন, "ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রে বেছে বেছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের নাম এসআইআর পর্বে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছিল। আমি তার প্রতিবাদে আন্দোলন করতে গিয়েছিলাম। সেটা হয়তো দল ভালভাবে নেয়নি। তাই আমাকে 'বলির পাঁঠা' করা হল। ফরাক্কাবাসীদের ভোটাধিকার বাঁচাতে গিয়ে আমি 'বলির পাঁঠা' হয়ে গেলাম।"
প্রসঙ্গত, এসআইআর পর্বে ফারাক্কা ব্লকে বেছে বেছে সংখ্যালঘু মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে এই অভিযোগ তুলে প্রায় এক মাস আগে বিডিও অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। নিগৃহীত হন কয়েকজন সরকারি আধিকারিক। এই ঘটনায় পুলিশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেপ্তারও করে। এই মামলায় আদালত থেকে আগাম জামিন নিতে হয় মনিরুল ইসলামকে।
মনিরুল বলেন, "ফরাক্কাবাসী আমার হৃদয়ে রয়েছেন, আমি আশাবাদী ফরাক্কাবাসীও তাঁদের হৃদয়ে আমাকে রেখেছেন। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে তা ফের একবার প্রমাণ করে দেব।"
মনিরুল দাবি করেন, "আমাকে তৃণমূল দল টিকিট না দেওয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সন্ধে থেকেই ফরাক্কা ব্লকের তৃণমূলের বিভিন্ন পদাধিকারী নিজেদের পদ থেকে পদত্যাগ করতে চলেছেন। দলের আভ্যন্তরীণ চক্রান্তের শিকার হওয়ার জন্য আমাকে ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে টিকিট দেওয়া হলো না।"
