আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুর্শিদাবাদ জেলায় নির্বাচনের আর মাত্র ৭২ ঘন্টার কম সময় বাকি। মঙ্গলবার বিকালে শেষ হতে চলেছে সমস্ত রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রচার।

তার আগে মঙ্গলবার সাগরদিঘি বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস নিজের বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে দাবি করে বসলেন  অধীর চৌধুরীকে নিজের রাজনৈতিক জীবনের 'গুরু' বলে তিনি কোন ভুল করেননি। উল্টে এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলে বসেন শুধু অধীর চৌধুরী নয় মহম্মদ সেলিমও তাঁর রাজনৈতিক 'গুরু'। 

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে বায়রন বিশ্বাসের একটি বক্তব্য ভাইরাল হয়। যেখানে তাঁকে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীকে নিজের গুরুদেব বলে বলতে শোনা গিয়েছে এবং আজীবন তিনি অধীর চৌধুরীকে মনে রাখবেন বলেও জানিয়েছিলেন (যদি এই ভিডিওর সত্যতা আজকাল ডট ইন যাচাই করেনি)। 

বায়রনের বক্তব্য ভাইরাল হতেই রাজ্য জুড়ে শোরগোল পরে যায়। মঙ্গলবার সাগরদিঘির বাড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বায়রন  দাবি করেন ,তাঁর আংশিক বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, আর তাতেই ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে।

যদিও ভাইরাল হওয়া বক্তব্যে অধীর চৌধুরীকে গুরুদেব বলে তিনি যে কোনও অন্যায় করেননি তা জোর গলায় দাবি করেছেন বায়রন।  

এর পাশাপাশি তিনি বলেন," সেদিন আমি আমার অপর রাজনৈতিক গুরু মহম্মদ সেলিমের নাম বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। সাগরদিঘি বিধানসভা উপনির্বাচনে আমি বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী ছিলাম। দু'জনেই আমার গুরু।"

কংগ্রেসে  ছেড়ে  তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান তাঁর নিজের 'জেনে বুঝে করা ভুল' বলে বায়রন আজ দাবি করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন," তৃণমূলে এসে আমি 'ভুল' করেছি। তবে এই ভুল সকলের করা উচিত। তবে আমি যে ভুল আগে করেছি। এখন অনেক রথী -মহারথীকে সেই ভুল করতে দেখছি।"

সদ্য কংগ্রেস ত্যাগী প্রদেশ কংগ্রেস মুখপাত্র হাসানুজ্জামান বাপ্পার  নাম করে বায়রন  বিশ্বাস বলেন," উনি একসময় আমার বিরুদ্ধে অনেক কথা বলেছেন।  কিন্তু শেষ পর্যন্ত অভিষেক ব্যানার্জির হাত ধরে তাঁকেও তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে হয়েছে। এই রাজ্যে তৃণমূল ছাড়া কোনও  রাস্তা নেই। তৃণমূল করেছিলাম বলে আমার বিধানসভায় এলাকায়  অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ৭০ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। এলাকার রাস্তাঘাট, পানীয় জল ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। প্রচুর মানুষ  সরকারি প্রকল্পে ঘর পেয়েছেন।"

কারণে সাগরদিঘি বিধানসভা এলাকাতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারের সংখ্যা কমলেও তাতে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন বায়রন।

তিনি বলেন ,"এই রাজ্যের মানুষ 'গোঁড়া' নয়। সংখ্যালঘু মুসলমানদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে তো কি হয়েছে? হিন্দুরা তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দেবেন।" 

এরপরই বায়রন বলেন, "তৃণমূলে এসে ভুল করেছি, তবে এই ভুল সকলের করা উচিত। এখন আমার দেখানো পথে এই ভুল বিজেপির নেতা, কংগ্রেস নেতা, সিপিএমের নেতারাও করছেন। উন্নয়নের জন্য এই রাজ্যে তাঁরা এখন তৃণমূলের হাত ধরছেন।"
 
বায়রন আরও বলেন,"অল্প সময়ে সাগরদিঘির বিধায়ক হিসেবে আমি যা করতে পেরেছি তার জন্য গর্বিত। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এখানে 'মাদার এন্ড চাইল্ড হাব' করার কথা বলা হয়েছে।

সাগরদিঘিতে একটি স্টেডিয়ামও হবে। এর পাশাপাশি আমি নিজের ব্যক্তিগত  ২২ বিঘা জমিতে আমার বাবা বাবর আলী বিশ্বাসের নামে একটি কলেজ করার উদ্যোগে নিয়েছি। যার পরিকল্পনা ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকেও জানিয়েছি।"

পাশাপাশি বায়রন বলেন, "আমার পরিকল্পনা রয়েছে সাগরদিঘি বিধানসভাকে পুরসভা এলাকায় পরিবর্তিত করা।" এরপরই তিনি বলেন," যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে তাতে শুনতে পাওয়া যাচ্ছে আমি শুধু অধীর চৌধুরীর কথা বলছি। কিন্তু এখন আমি মহম্মদ সেলিমের নামও বলছি। সাগরদিঘি উপনির্বাচনে আমি বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী ছিলাম, তাই দু'জনেই আমার গুরু।"