আজকাল ওয়েবডেস্ক: জল্পনা ছিলই। তবে তালিকায় সিলমোহর পড়তেই তা বাস্তবে রূপ নিল। তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় নাম নেই বলাগড়ের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বিশিষ্ট সাহিত্যিক মনোরঞ্জন ব্যাপারীর। দল টিকিট না দেওয়ায় ক্ষোভ গোপন করেননি তিনি। সেই অভিমান ঝরে পড়ল তাঁর 'চিরাচরিত' কলমেই। 

মঙ্গলবার একটি দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, টিকিট না পাওয়াটা তাঁর কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল না। তাই খবর শুনে মুষড়ে না পড়ে বরং ‘দিবানিদ্রা’ সেরেছেন তিনি।

মনোরঞ্জনবাবু তাঁর পোস্টে স্পষ্ট লিখেছেন, “যা হবার ছিল তাই হয়েছে।” বলাগড়ের মানুষের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, পাঁচ বছর আগে ‘বহিরাগত’ হিসেবে এলেও সাধারণ মানুষ তাঁকে আপন করে নিয়েছিলেন। সেই ঋণের কথা মনে রেখেই তিনি দাবি করেছেন, বিধায়ক থাকাকালীন নিজের সাধ্যমতো সৎ থেকে মানুষের পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।

মনোরঞ্জনবাবু জানিয়েছেন, তিনি আগে থেকেই জানতেন টিকিট পাবেন না। তাই মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন। তাঁর কথায়, দল কাকে টিকিট দেবে সেটা একান্তই নেত্রীর ব্যক্তিগত বিষয়। বালি মাফিয়া, গাছ চোর এবং রেশন চোরদের বিরুদ্ধে তিনি যে লড়াই চালিয়েছিলেন, পোস্টে তার উল্লেখ করেছেন। 

তিনি গর্বের সঙ্গে জানিয়েছেন, বিরোধী দলও তাঁর গায়ে দুর্নীতির ‘কালির ছিটে’ দিতে পারেনি। চার বছর দশ মাস বলাগড়ে ঘর ভাড়া নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গেই কাটিয়েছেন বলে জানান তিনি। গরিব মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল তাঁর বিধায়ক জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি।

রাজনীতির ময়দানে সময় দিতে গিয়ে গত কয়েক বছর লেখালেখি থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন। এবার থেকে ফের নিজের সেই পুরনো ‘পরিচিত’ সত্তায় ফিরতে চান তিনি। পোস্টের শেষে বিষণ্ণতা। তিনি লিখেছেন, “চলো পায়ে পায়ে একটা নতুন পথ গড়ে যাই। চলো বাঁচার জন্য একবার মরে যাই।”

বিদায়বেলায় দল এবং পরিস্থিতির ওপর অভিমান থাকলেও বলাগড়ের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মনোরঞ্জন ব্যাপারী। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় কথা দিয়েছিলেন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হলে মানুষ যেন তাঁকে থুতু দেয়। কিন্তু আজ চলে যাওয়ার সময় কেউ তাঁকে ঘৃণা করেনি, বরং ভালোবেসেছে- এটাই তাঁর পরম তৃপ্তি।

নিজের আত্মজীবনী ‘ইতিবৃত্তে চণ্ডাল জীবন’-এর প্রসঙ্গ টেনে লেখক-বিধায়ক বুঝিয়ে দিয়েছেন, হার-জিত তাঁর জীবনে নতুন নয়। তবে বলাগড় ছাড়ার সময় এক বুক অভিমান আর মানুষের ভালোবাসা- এই দুই সম্বল নিয়েই ফিরছেন তিনি।