আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচনী প্রচারের একেবারে শেষ লগ্নে এসে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের নওদা বিধানসভা এলাকা। ‘‌আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’‌র চেয়ারম্যান তথা ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের প্রচার ঘিরে মঙ্গলবার সকাল থেকেই সরগরম নওদা থানার অন্তর্গত মধুপুর।

মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদ জেলায় নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিন নওদা বিধানসভা এলাকার মধুপুরে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হিসেবে সকালেই বিশাল কনভয় নিয়ে প্রচারে বের হন হুমায়ুন কবীর। মধুপুর এলাকায় পৌঁছতেই পুলিশ তাঁর গাড়ি আটকে দেয় বলে অভিযোগ। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়, ওই অঞ্চলে প্রচারের জন্য আগে থেকে হুমায়ুনের দলের তরফে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। ফলে গাড়ি আর সামনে এগোতে দেওয়া যাবে না।

 এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হুমায়ুন কবীরের অনুগামী ও ‘‌আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’‌র কর্মী–সমর্থকরা নির্বাচন কমিশন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। ভিড়ের মধ্য থেকে পুলিশের দিকে উড়ে আসে বিভিন্ন বিরূপ মন্তব্য। কিছুক্ষণের জন্য মধুপুর মোড় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। 


প্রসঙ্গত আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ুন এবছর নওদা ছাড়াও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লড়াই করছেন। নওদা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস এবছরও তাদের দলের বিদায়ী বিধায়ক শাহিনা মমতাজ খানকে প্রার্থী করেছে। 

নির্বাচনী প্রচারে বাধা পেয়েই সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর অভিযোগ, ‘‌নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ তৃণমূলের দালালি করছে। পরিকল্পিতভাবে আমাকে প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে। মধুপুরে এসে আমার গাড়ি আটকে দেওয়া হল। কিন্তু এভাবে আমাকে আটকানো যাবে না।’‌ 

তিনি আরও বলেন, ‘‌আমি গাড়ির ট্যাক্স দিই। আমার গাড়ি কোথায় যাবে সেটা আমি ঠিক করব। গাড়ি আটকালেও গোটা নওদা বিধানসভা আমি পায়ে হেঁটে চষে ফেলব। মানুষের দরজায় দরজায় পৌঁছাবই।’‌ প্রশাসনের দাবি, নিয়ম মেনেই পদক্ষেপ করা হয়েছে।  রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য গাড়ি ব্যবহার বা মিছিলের কোনও অনুমতি নেননি হুমায়ুন কবীর। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে যেকোনও রাজনৈতিক দলকে ভোটের প্রচারের জন্য কমপক্ষে ৪৮ ঘন্টা আগে কমিশনের ‘‌সুবিধা’‌ পোর্টালে আবেদন করে অনুমতি নিতে হয়। তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ হুমায়ুন কবীরের অনুগামীরা। তাঁদের পাল্টা অভিযোগ, শাসকদলের চাপে কমিশন বিরোধী প্রার্থীদের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে।

 ভোটের মাত্র দু’দিন আগে এই ঘটনায় নওদা জুড়ে তৈরি হয়েছে টানটান উত্তেজনা। এলাকায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নজরদারি।