আজকাল ওয়েবডেস্ক: কোচবিহারে নির্বাচনী ময়দানে এসে ফের বিতর্কে জড়ালেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। শনিবার কোচবিহারের মাথাভাঙায় বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে জনসভা করতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে একাধিক আক্রমণাত্মক ও বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।
সভামঞ্চ থেকে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের লোকজন যদি হুমকি দেয়, তাহলে ৪ মে-র পর উলটো গোনা শুরু হবে। জল দেওয়ার লোকও থাকবে না।” তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে, এই ধরনের বক্তব্য নির্বাচনী পরিবেশকে উত্তপ্ত করছে এবং গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করছে।
এদিনের সভায় তিনি শুধু তৃণমূল নয়, একযোগে কংগ্রেস ও বাম দলগুলিকেও আক্রমণ করেন। সম্প্রতি লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস না হওয়া প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলির সম্মিলিত অবস্থানের কারণেই বিলটি আটকে গিয়েছে। তাঁর দাবি, মহিলাদের ক্ষমতায়নের পথে বাধা দিচ্ছে বিরোধীরা।
রাজ্যের শাসনব্যবস্থা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন যোগী। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের আমলে গত ১৫ বছরে বাংলায় প্রায় সাত হাজার কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ বেকার হয়েছেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকার যে অর্থ রাজ্যে পাঠায়, তা সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যবহার না হয়ে “গুন্ডা ও অনুপ্রবেশকারীদের” কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।
হিন্দুত্বের ইস্যুতেও সরব হন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলায় রামনাম উচ্চারণ করাও কঠিন হয়ে উঠেছে এবং দুর্গাপুজো বা বিসর্জনের ক্ষেত্রেও নানা বাধা সৃষ্টি করা হয়। অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, তৃণমূল বা ডিএমকে কেউই তা আটকাতে পারেনি।
একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে ‘বুলডোজার রাজনীতি’র প্রসঙ্গও তোলেন যোগী আদিত্যনাথ। তিনি বলেন, “উত্তরপ্রদেশে মাফিয়া ও দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বাংলাতেও সেই পথেই হাঁটা হবে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা দিচ্ছেন তিনি।
এদিনের সভা থেকে বিজেপির পক্ষে ভোটের আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবর্তনের জন্য বাংলার মানুষ প্রস্তুত। অন্যদিকে তাঁর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসকদলের নেতাদের দাবি, এই ধরনের ভাষা ব্যবহার করে বিজেপি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের আক্রমণাত্মক প্রচার ভোটের মেরুকরণ বাড়াতে পারে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের মতো সংবেদনশীল এলাকায় এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। আগামী ৪ মে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ। তার আগে শেষ মুহূর্তের প্রচারে সমস্ত দলই নিজেদের শক্তি উজাড় করে দিচ্ছে। এই আবহে যোগী আদিত্যনাথের মন্তব্য নির্বাচনী লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
















