পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল যখন তুঙ্গে, তখন উত্তরপাড়ার বামফ্রন্ট প্রার্থী মীনাক্ষী মুখার্জি হলফনামা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রবল চর্চা শুরু হয়েছে।
2
12
উচ্চশিক্ষিত এবং লড়াকু এই নেত্রীর জীবনযাত্রার সারল্য তাঁর পেশ করা সম্পত্তির খতিয়ানে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।
3
12
হলফনামা অনুযায়ী, মীনাক্ষীর নিজস্ব কোনও জমি বা বাড়ি নেই, যা আজকের দিনের কোটিপতি প্রার্থীদের ভিড়ে এক বিরল দৃষ্টান্ত। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী প্রার্থীর সম্বল বলতে কেবল ৫ লক্ষ ৭৮ হাজার ৪৫৬ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি।
4
12
তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা সঞ্চয়ও অত্যন্ত সাধারণ মানের; বিভিন্ন শাখায় গচ্ছিত টাকার পরিমাণ কোনোটিই ২ লক্ষ টাকার গণ্ডি পেরোয়নি। যাতায়াতের জন্য তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলতে কেবল ১০ বছরের পুরনো একটি মোটরসাইকেল এবং হাতে থাকা নগদ মাত্র ২ হাজার টাকা।
5
12
নিজেকে পুরোদস্তুর সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এই নেত্রীর আয়ের একমাত্র উৎস হল দলের কাছ থেকে পাওয়া যৎসামান্য ভাতা।
6
12
তবে ব্যক্তিগত বিষয় বা সম্পত্তির হিসেবে মীনাক্ষী শান্ত থাকলেও, তাঁর রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দান অত্যন্ত উত্তপ্ত। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট ১৯টি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
7
12
এই মামলাগুলির সিংহভাগই বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন এবং প্রতিবাদের ফলশ্রুতি। এর মধ্যে সরকারি কাজে বাধা দান, বেআইনি জমায়েত থেকে শুরু করে পথ অবরোধের মতো একাধিক গুরুতর ধারা রয়েছে।
8
12
তবে তিনি এও স্পষ্ট করেছেন যে, কোনও মামলাতেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হননি। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় তাঁর আক্রমণাত্মক মেজাজও ছিল চোখে পড়ার মতো।
9
12
তথাকথিত ‘হাই প্রোফাইল’ ইমেজের কথা উঠতেই তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন যে প্রকৃত প্রোফাইল কার হাই হওয়া উচিত। মীনাক্ষীর মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার সাজানো জৌলুস নয়, বরং মানুষের অধিকার আদায়ের ময়দানই ঠিক করবে আসল প্রোফাইল কার।
10
12
শাসক দল তৃণমূল এবং বিরোধী বিজেপি উভয়কেই সমানে আক্রমণ শানিয়ে তিনি এই নির্বাচনকে বাংলার গণতন্ত্র ও শ্রমজীবী মানুষের রুটি-রুজির লড়াই হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
11
12
কোনও রকম ঝকঝকে ইমেজের সাহায্য না নিয়ে মীনাক্ষী সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন যে, কার নীতি আর কার আদর্শ কতটা শক্তিশালী তার চূড়ান্ত বিচার হবে মানুষের আদালতে তথা ভোটের ময়দানে।
12
12
উত্তরপাড়ার এই লড়াই তাই এখন কেবল একটি আসনের জয়-পরাজয় নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবন সংগ্রামের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।