বাংলাজুড়ে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে বাংলার সংস্কৃতি রক্ষার বার্তা তৃণমূলের প্রার্থীদের
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৯ : ৪৮
শেয়ার করুন
1
7
প্রভাতফেরি, সাংস্কৃতিক আসর, বসে আঁকো প্রতিযোগিতা এবং ঐক্যবদ্ধ বাঙালি কণ্ঠে রাজ্যজুড়ে অনন্য উদযাপন। পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এ বছরের বাংলা নববর্ষ শুধুমাত্র উৎসবের আনন্দে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এর সঙ্গে জুড়ে ছিল এক গভীর ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞা—বাংলার ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে কোনওভাবেই হারিয়ে যেতে দেওয়া হবে না, যতদিন বাঙালির কণ্ঠস্বর জীবিত।
2
7
এবারের নববর্ষ উদযাপনে এক বিশেষ আবেগ ও তীব্রতা ছিল, যা অতীতে সবসময় দেখা যায়নি। দেশের নানা প্রান্তে বাংলা ভাষাকে সরকারি ক্ষেত্র থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রবণতা, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালি শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার ও বৈরিতা, এবং বাঙালির খাদ্যাভ্যাস, পোশাক ও সংস্কৃতিকে উপহাস করার প্রবণতা—এই সমস্ত কিছুর প্রেক্ষাপটে এবারের নববর্ষ যেন কেবল উৎসব নয়, বরং আত্মপরিচয় রক্ষার এক দৃঢ় প্রকাশ হয়ে উঠেছে।
3
7
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রভাতফেরিতে অংশ নেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের সীমারেখা অতিক্রম করে ধর্মীয় নেতারাও একসঙ্গে শোভাযাত্রায় হেঁটেছেন। বাংলার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শুরু হয়েছে এই পদযাত্রা। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও প্রার্থীরাও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।
4
7
সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে উদযাপনের রূপ আরও গাঢ় হয়েছে। বিভিন্ন পাড়ায় আয়োজিত রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যায় পরিবার-পরিজন একত্রিত হয়ে দুই মহান কবির সৃষ্টিকে স্মরণ করেছেন। তৃণমূল নেতারাও সাধারণ দর্শকদের সঙ্গে মিশে গিয়ে এই অনুষ্ঠানের অংশ হয়েছেন। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে গেছে—যা কোনও নির্দেশ বা নিয়মে মুছে ফেলা যায় না।
5
7
প্রতিটি অনুষ্ঠানের মূল সুর ছিল একটাই—একসঙ্গে শপথ নেওয়া। বাংলার বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, প্রাচীন ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধ উত্তরাধিকারকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি। পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া ঐতিহ্যকে আগলে রাখার সংকল্প। এবং ঐক্যকে সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তি হিসেবে ধরে রাখার অঙ্গীকার। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ও নেতারাও সাধারণ মানুষের সঙ্গে এক কণ্ঠে এই শপথে অংশ নিয়েছেন।
6
7
এই দৃশ্য কোনও প্রচারভাষণের চেয়েও বেশি শক্তিশালী বার্তা বহন করেছে। যখন বাংলা ভাষা তার প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত হয়, যখন বাঙালির খাদ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে উপহাস করা হয়, যখন বাঙালি শ্রমিকদের অন্য রাজ্যে হেনস্থা করা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে—কে বাংলার পাশে আছে? তৃণমূলের এই সর্বস্তরের উপস্থিতি সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর তুলে ধরেছে।
7
7
তৃণমূলের কাছে বাংলা নববর্ষ শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়, বরং একটি মূল্যবোধের পুনঃপ্রতিশ্রুতি। বাংলার পরিচয় রক্ষা, তার সম্প্রীতির ঐতিহ্য বজায় রাখা, এবং কোনও বাহ্যিক শক্তিকে এই স্বাতন্ত্র্যকে আঘাত করতে না দেওয়ার অঙ্গীকারই এই উদযাপনের মূল বার্তা। ১লা বৈশাখের রাতে যখন রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সুর ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়েছে, তখনও একটাই কথা প্রতিধ্বনিত হয়েছে—বাংলার সংস্কৃতি বাঁচবে, ভাষা মর্যাদা পাবে, খাদ্য ও রীতিনীতি সুরক্ষিত থাকবে, আর ধর্ম-বর্ণ-প্রজন্মের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যই হবে বাংলার সবচেয়ে বড় শক্তি।