কথা দিয়েছিলেন শনিবারই। ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়ায় মাইক-সংঘাতের জেরে সভা সংক্ষিপ্ত করে যখন মঞ্চ ছাড়ছিলেন, তখনই তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা দিয়েছিলেন রবিবার পথে নামবেন। সেই কথা রাখতেই ছুটির বিকেলে নিজের খাসতালুকে মেগা পদযাত্রা সারলেন তিনি। আর নেত্রীকে হাতের নাগালে পেয়ে ভবানীপুর দেখল বাঁধভাঙা উন্মাদনা। বিকেল ৪টে ১৫ মিনিটে চক্রবেড়িয়া মোড় থেকে শুরু হয় এই পদযাত্রা। পরনে চেনা সাদা শাড়ি আর হাওয়াই চটি, পাশে ফিরহাদ হাকিম। কখনও কালীঘাট রোড, কখনও হরিশ মুখার্জি রোড— অলিগলি থেকে রাজপথ, সর্বত্রই ছিল মানুষের ভিড়।
2
5
এই দীর্ঘ পথে শুধু হাঁটা নয়, মমতা সারলেন নিবিড় জনসংযোগ। কখনও গতি কমিয়ে কথা বললেন পথচলতি মানুষের সঙ্গে, কখনও যদু বাবুর বাজারের বিক্রেতাদের কাছে দাঁড়িয়ে খোঁজ নিলেন কুশল সংবাদ। এদিন নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকলেও সাধারণ মানুষের আবেগের কাছে তা যেন ফিকে হয়ে গিয়েছিল। এক মহিলা ভিড় ঠেলে সটান পৌঁছে যান মমতার কাছে, পা ছুঁয়ে করেন প্রণাম। নেত্রী বারণ করলেও ভক্তের আবেগ মানেনি প্রোটোকল।
3
5
জনজোয়ারে সামিল হয়েছিল খুদেরাও। মায়ের হাত ধরে এক খুদেকে দেখা গেল গোলাপ হাতে নেত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে। শুধু নবীন নয়, প্রবীণদের মধ্যেও ছিল প্রবল উৎসাহ। কেউ হুইলচেয়ারে চেপে, কেউ আবার বাড়ির জানলা বা ছাদে ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছেন ‘ঘরের মেয়ে’কে একঝলক দেখার জন্য। ঢাকের কাঠি আর গান মিলিয়ে গোটা এলাকা ছিল উৎসবমুখর।
4
5
শনিবারের সেই অনভিপ্রেত ঘটনা নিয়ে এদিনও যথেষ্ট আক্রমণাত্মক ছিলেন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, ওড়িশা থেকে কালো স্করপিও চড়ে কোটি কোটি টাকা আসছে ভবানীপুরে। বিজেপি ভয় দেখিয়ে এবং টাকা ছড়িয়ে ভোট পাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে মমতা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভয় দেখালে মানুষ লড়ে নেবে। তাঁর দাবি, প্রথম দফার ভোটে তৃণমূল ইতিমধ্যেই 'সেঞ্চুরি' করে ফেলেছে এবং দ্বিতীয় দফায় 'ডবল সেঞ্চুরি' করবে।
5
5
ভোটারদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, "তৃণমূল জোড়াফুল ছাড়া কাউকে একটাও ভোট দেবেন না। এটা আপনাদের ভবিষ্যতের প্রশ্ন।" একইসাথে দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, প্রচার শেষ হওয়ার পর বিজেপি জোরজবরদস্তি করতে পারে, কিন্তু মহিলারা যেন সাহসের সাথে রুখে দাঁড়ান। মূলত, শনিবারের অপমানের জবাব এদিন রাজপথের জনসমর্থন দিয়েই ফিরিয়ে দিলেন তৃণমূলনেত্রী।