নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশিকা আর উৎসবের আমেজ—এই দুইয়ের মিশেলে দোরগোড়ায় হাজির আরও একটি নির্বাচন। গণতন্ত্রের এই উৎসবে শামিল হতে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগে ভোটারদের জন্য কিছু জরুরি সতর্কবার্তা ও পরামর্শ উঠে আসছে অভিজ্ঞ মহল থেকে। এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে যাওয়ার আগে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নিজের মোবাইল ফোনটি বাড়িতে রেখে যাওয়া।
2
8
অনেকেই সাইলেন্ট বা সুইচ অফ করে পকেটে নিয়ে বুথে ঢুকে পড়েন, যা এবার বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। কমিশনের নির্দেশ অত্যন্ত কড়া, বুথের ভেতর মোবাইলসহ ধরা পড়লে জেল-হাজত পর্যন্ত হতে পারে। একান্তই সঙ্গে নিতে হলে তা নির্দিষ্ট জায়গায় জমা রাখা বাধ্যতামূলক।
3
8
ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে কিংবা বুথের ভেতরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে অতিরিক্ত সখ্যতা তৈরির চেষ্টা না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। সৌজন্য দেখাতে গিয়ে "আপকা ঘর কিধার হ্যায়?" জাতীয় আলাপচারিতা আপনার এবং ডিউটিতে থাকা জওয়ান—উভয়কেই অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। তাদের নিজেদের কাজ শান্তিতে করতে দেওয়াই কাম্য।
4
8
পরিচয়পত্র হিসেবে ভোটার আই কার্ড বা এপিক সাথে রাখা সবথেকে ভালো। পাসপোর্ট বা অন্য নথি থাকলেও অপ্রয়োজনীয় তর্কে না জড়িয়ে কমিশনের নির্দিষ্ট তালিকায় থাকা পরিচয়পত্রগুলোই ব্যবহার করা উচিত। মনে রাখবেন, আগের নির্বাচনের অভিজ্ঞতার দোহাই দিয়ে ফার্স্ট পোলিং অফিসারের সঙ্গে কথা কাটাকাটি কেবল সময় নষ্ট করবে।
5
8
ভোটকেন্দ্রের বাইরে ঝোলানো লিস্টের আনমার্কড কপির সাথে নিজের অংশ নম্বর মিলিয়ে নিলে আপনার কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে। রাজনৈতিক দলের দেওয়া স্লিপ বা কাগজের প্রচার অংশটি বাড়ি থেকেই ছিঁড়ে নেওয়া উচিত। বুথ চত্বরে কাগজ ছিঁড়ে নোংরা করা বা সেই কাগজ নিয়ে ভেতরে ঢোকা নির্বাচনী বিধিভঙ্গের সামিল, যার জেরে অভিযোগ উঠলে আইনি বিপাকে পড়তে পারেন আপনি।
6
8
ভেতরে ঢুকে তাড়াহুড়ো না করে বয়স্ক বা গর্ভবতী মহিলাদের আগে সুযোগ দেওয়াটা আপনার মানবিকতার পরিচয় দেবে। ইভিএম মেশিনে ভোট দেওয়ার সময় লক্ষ্য রাখবেন নীল রঙের বোতামটির দিকে। প্রার্থীর ছবির ওপর নয়, পাশের বোতামে একবারই চাপ দিন। বারবার চাপ দিলে ভোট বাড়ে না, বরং মেশিনে গোলযোগ হতে পারে। আর ফর্ম ১৭-এ সই বা টিপছাপ দেওয়ার পর সেই আঙুল দিয়ে ব্যালট ইউনিট ধরে নোংরা করবেন না।
7
8
ভোট দেওয়ার পর ভিভিপ্যাট স্লিপ ভালো করে দেখে নিয়ে তবেই বাইরে বেরোন। সিসিটিভি ক্যামেরায় সবকিছু নজরদারি করা হচ্ছে, তাই একবার বেরিয়ে গিয়ে আবার ভেতরে ঢোকার কোনও অবকাশ নেই। লাইনে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক আলোচনা থেকে বিরত থাকা এবং পরিচিত কোনও ভোটকর্মী বা প্রিসাইডিং অফিসারকে দেখে অযথা কুশল বিনিময় এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। এতে তাদের কাজের ব্যাঘাত ঘটে। আপনি নিজে অভিজ্ঞ এজেন্ট বা ভোটকর্মী ছিলেন—এমন বড়াই করার জায়গা পোলিং রুম নয়।
8
8
আঙুলে কালির পরিমাণ নিয়ে সেকেন্ড পোলিং অফিসারের সঙ্গে তর্ক করবেন না, কারণ কালি দেওয়ার ব্রাশটি সবসময় সুনির্দিষ্ট থাকে না। সবশেষে মনে রাখবেন, নির্বাচনের নিয়ম প্রতি বছর বদলে যেতে পারে। তাই ভোটকর্মীরা যা বলছেন, তা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলাই নাগরিক হিসেবে আপনার দায়িত্ব। ভোট কত শতাংশ পড়ল বা কেমন হচ্ছে, সেই চিন্তায় কর্মকর্তাদের উত্যক্ত না করে নিজের ভোটটি শান্তিতে দিয়ে ফিরে আসাই প্রকৃত সচেতনতা।