আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের নতুন আয়কর আইন অনুযায়ী কর ব্যবস্থায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল ফর্ম ১২১ চালু করা, যা আগে ব্যবহৃত ফর্ম ১৫জি এবং ফর্ম ১৫এইচ-র পরিবর্তে এসেছে। ২০২৬-২৭ করবর্ষ থেকে এই নতুন ফর্মটি ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক হতে চলেছে।
ফর্ম ১২১ কী?
ফর্ম ১২১ হল একটি ঘোষণাপত্র যা ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা দিয়ে আপনি জানাতে পারেন যে আপনার মোট আয় করযোগ্য সীমার নিচে রয়েছে। ফলে, আপনার সুদের আয়ের উপর ব্যাঙ্ক যেন টিডিএস না কাটে, সেই অনুরোধই এই ফর্মের মাধ্যমে করা হয়।
আগে এই কাজের জন্য দুই ধরনের ফর্ম ছিল— ফর্ম ১৫জি এবং ফর্ম ১৫এইচ। কিন্তু এই দুই ফর্ম নিয়ে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হত। নতুন ফর্ম ১২১ সেই সমস্যারই সমাধান করেছে।
কেন ফর্ম ১২১ চালু করা হয়েছে?
সরকার করদাতাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ করতে এই নতুন ফর্ম এনেছে। একাধিক ফর্মের বদলে একটি ফর্ম থাকায় কোন ফর্ম প্রযোজ্য তা নিয়ে বিভ্রান্তি কমবে। জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হবে। ডিজিটাল সাবমিশন আরও দ্রুত ও সুবিধাজনক হবে।
কেন ব্যাঙ্কে জমা দেওয়া জরুরি?
যদি আপনার মোট বার্ষিক আয় করযোগ্য সীমার নিচে থাকে, তাহলে ব্যাঙ্কে ফর্ম ১২১ জমা না দিলে আপনার সুদের আয়ের উপর টিডিএস কেটে নেওয়া হতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, ফিক্সড ডিপোজিট বা রিকরিং ডিপোজিটের সুদের উপর নির্দিষ্ট সীমার বেশি হলে ব্যাঙ্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিডিএস কেটে নেয়।
কে কে এই ফর্ম জমা দিতে পারবেন?
যাদের মোট আয় করযোগ্য সীমার নিচে।
যাদের সুদের আয় আছে (FD, RD ইত্যাদি থেকে)
তবে ভুল তথ্য দিলে জরিমানা বা আইনি সমস্যার সম্মুখীন হতে হতে পারে, তাই সঠিক তথ্য প্রদান অত্যন্ত জরুরি।
কখন জমা দিতে হবে?
সাধারণত আর্থিক বছরের শুরুতেই ফর্ম ১২১ জমা দেওয়া উচিত। এতে সারা বছরের জন্য টিডিএস কাটা এড়ানো যায়। যদি বছরের মাঝামাঝি জমা দেন, তাহলে তার আগে কাটা টিডিএস ফেরত পেতে আপনাকে আয়কর রিটার্ন ফাইল করতে হবে।
&t=546s
ফর্ম ১২১ চালু হওয়ার ফলে করদাতাদের জন্য টিডিএস এড়ানোর প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়েছে। একক ফর্ম ব্যবস্থার ফলে বিভ্রান্তি কমবে এবং সময়ও বাঁচবে। তবে ফর্ম জমা দেওয়ার আগে নিজের আয় ও করযোগ্যতা সঠিকভাবে যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।















