আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য অষ্টম বেতন কমিশন ঘিরে জল্পনা দিন দিন বাড়ছে। সপ্তম বেতন কমিশনের মেয়াদ কার্যত শেষের পথে, ফলে নতুন করে বেতন কাঠামো, ডিএ, পেনশন এবং অন্যান্য ভাতা পুনর্বিন্যাসের দাবি জোরদার হচ্ছে। কর্মী সংগঠনগুলির দাবি, মূল্যবৃদ্ধির বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরনো কাঠামো আর বাস্তবসম্মত নয়।


ভারতে প্রথম বেতন কমিশন গঠিত হয়েছিল ১৯৪৬ সালে। তারপর থেকে প্রতি দশ বছর অন্তর নতুন কমিশন গঠনের রীতি দেখা গেছে। সর্বশেষ সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর হয় ২০১৬ সালে। সেই হিসেবে ২০২৬ সালের আশেপাশে অষ্টম বেতন কমিশন চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি, তবুও কর্মচারী মহলে আশাবাদ প্রবল।


কতটা বাড়তে পারে বেতন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অষ্টম বেতন কমিশনে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ বড় ভূমিকা নিতে পারে। সপ্তম বেতন কমিশনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ছিল ২.৫৭। অনেক কর্মী সংগঠন চাইছে এটি ৩.৫ বা তারও বেশি হোক। যদি তা হয়, তাহলে বেসিক বেতনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানে ১৮,০০০ টাকা ন্যূনতম বেসিক বেতন থাকলে তা বেড়ে ২৬,০০০-৩০,০০০ টাকার ঘরে পৌঁছাতে পারে।


এছাড়া ডিএ-র সঙ্গে বেসিক বেতন মার্জ করার প্রস্তাবও উঠছে। বর্তমানে ডিএ ৫০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। অতীতে দেখা গেছে, ডিএ ৫০ শতাংশ ছাড়ালে তা বেসিকের সঙ্গে যুক্ত করে নতুন স্কেল নির্ধারণ করা হয়। সেই রীতিই আবার অনুসরণ হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।


পেনশনভোগীদের জন্য কী সুখবর?
অষ্টম বেতন কমিশন শুধু কর্মরত কর্মীদের জন্য নয়, পেনশনভোগীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। পেনশন হিসাবেও ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রযোজ্য হতে পারে। ফলে লক্ষ লক্ষ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর মাসিক আয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবার পেনশন ও গ্র্যাচুইটির অঙ্কও বাড়তে পারে।


সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ
তবে সবকিছুর মধ্যেই রয়েছে আর্থিক চাপের প্রশ্ন। অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হলে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। এর প্রভাব রাজ্য সরকারগুলির উপরও পড়বে, কারণ অনেক রাজ্য কেন্দ্রের বেতন কাঠামো অনুসরণ করে। ফলে সামগ্রিকভাবে আর্থিক ঘাটতির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।


অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, রাজস্ব আদায় এবং মূল্যস্ফীতির হারের উপর নির্ভর করবে কমিশনের সুপারিশ কতটা উদার হবে। সরকার একদিকে কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করতে চাইবে, অন্যদিকে আর্থিক ভারসাম্যও বজায় রাখতে হবে।


কর্মীদের প্রত্যাশা
কর্মচারী সংগঠনগুলি ইতিমধ্যেই ন্যূনতম বেতন ২৬,০০০ টাকায় উন্নীত করার দাবি তুলেছে। পাশাপাশি হাউস রেন্ট অ্যালাউন্স, ট্রান্সপোর্ট অ্যালাউন্স এবং অন্যান্য ভাতাতেও সংশোধনের দাবি রয়েছে। ডিজিটাল অর্থনীতি ও নতুন কাজের ধরণ বিবেচনায় রেখে কিছু নতুন ভাতা চালুর দাবিও উঠছে।

&t=1s


সব মিলিয়ে অষ্টম বেতন কমিশন ঘিরে কর্মী মহলে প্রবল আগ্রহ। যদিও সরকারি ঘোষণা এখনও হয়নি, তবুও ২০২৬-কে ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, কেন্দ্রীয় সরকার কবে আনুষ্ঠানিকভাবে অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের ঘোষণা করে এবং কর্মীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়।