আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রায় ১১ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ধাক্কা কাটতে না কাটতেই বিশ্বখ্যাত আইটি ও কনসালটিং সংস্থা অ্যাসেনচার তাদের কর্মীদের জন্য নতুন বার্তা দিল। প্রতিদিনের কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করতেই হবে, নাহলে বার্ষিক পারফরম্যান্স অ্যাপ্রাইজালে প্রভাব পড়তে পারে। সংস্থার এই অবস্থান প্রযুক্তি শিল্পে দ্রুত বদলে যাওয়া কাজের সংস্কৃতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।


বিশ্বজুড়ে কর্পোরেট দুনিয়ায় এখন এআই-চালিত অটোমেশন, ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং জেনারেটিভ টুল ব্যবহারের প্রতিযোগিতা চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে অ্যাসেনচার জানাচ্ছে, শুধু প্রযুক্তি দল নয়—ম্যানেজমেন্ট, এইচআর, ফাইন্যান্স, এমনকি মার্কেটিং টিমেরও দৈনন্দিন কাজে এআই টুল ব্যবহার করতে হবে। সংস্থার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন ব্যবস্থায় এআই-দক্ষতা এখন গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে ধরা হচ্ছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল খরচ কমানোর কৌশল নয়; বরং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর রণনীতি। ছাঁটাইয়ের পর কম জনবল নিয়ে একই বা বেশি কাজ সামলাতে হলে এআই-ভিত্তিক টুল অপরিহার্য হয়ে উঠছে। কোড লেখা, রিপোর্ট তৈরি, ক্লায়েন্ট প্রেজেন্টেশন বানানো, ডেটা বিশ্লেষণ—সব ক্ষেত্রেই এআই ব্যবহারে সময় ও খরচ কমছে। ফলে যেসব কর্মী দ্রুত নতুন প্রযুক্তি রপ্ত করতে পারছেন, তাদের গুরুত্বও বাড়ছে।


তবে কর্মীদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগও কম নয়। অনেকেই মনে করছেন, এআই ব্যবহারের চাপ মানে পরোক্ষে আরও কর্মী ছাঁটাইয়ের সম্ভাবনা। কারণ, যদি একটি টিম এআই দিয়ে দ্বিগুণ কাজ সামলাতে পারে, তবে ভবিষ্যতে মানবসম্পদের প্রয়োজন কমে যেতে পারে। অন্যদিকে সংস্থার বক্তব্য—এআই মানুষের বিকল্প নয়, বরং সহায়ক শক্তি। যারা এআই দক্ষতা বাড়াবে, তাদেরই ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত।


প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নীতি কেবল অ্যাসেনচারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। অন্যান্য আইটি ও কনসালটিং সংস্থাও শিগগিরই একই পথে হাঁটতে পারে। ইতিমধ্যে বহু বহুজাতিক সংস্থা কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক এআই প্রশিক্ষণ শুরু করেছে। ফলে ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে ‘এআই-স্মার্ট’ হওয়াই হবে মূল যোগ্যতা।


ভারতীয় আইটি কর্মীদের জন্য বার্তাটি স্পষ্ট—শুধু প্রোগ্রামিং ভাষা জানলেই চলবে না, জানতে হবে এআই টুলের ব্যবহার, প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং, ডেটা ইন্টারপ্রিটেশন এবং অটোমেশন কৌশল। যারা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবেন, তারাই এগিয়ে থাকবেন অ্যাপ্রাইজাল ও পদোন্নতির দৌড়ে।

&t=1s


সব মিলিয়ে, ১১ হাজার ছাঁটাইয়ের পর অ্যাসেনচারের এই কড়া সিদ্ধান্ত কর্পোরেট জগতে নতুন বাস্তবতার প্রতিফলন। প্রযুক্তি বদলাচ্ছে, কাজের ধরা বদলাচ্ছে—এবার বদলাতে হবে কর্মীদের দক্ষতার মানচিত্রও। এআই-ই এখন কর্মক্ষেত্রের নতুন মাপকাঠি।