আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার দালাল স্ট্রিটের দেখা গেল রক্তক্ষরণ। সপ্তাহের শেষ দিনে সেনসেক্স পড়ল ১০৪৮ পয়েন্ট। শুক্রবার এসএন্ডপি বিএসই সেনসেক্স ১,০৪৮.১৬ পয়েন্ট বা ১.২৫% কমে ৮২,৬২৬.৭৬-এ বন্ধ হয়েছে। এনএসই নিফটি ৫০-ও ৩৩৬.১০ পয়েন্ট কমে ২৫,৪৭১.১০-এ বন্ধ হয়েছে। এদিন বাজার শুরু হয়েছিল দুর্বল ভাবে। দ্বিতীয়ার্ধে লোকসান আরও তীব্র হয়। মুনাফা বুকিং এবং বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্ক মনোভাব এই পতনের কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই তীব্র পতনের ফলে বিনিয়োগকারীদের মূলধনের প্রায় ৭.৪ লক্ষ কোটি টাকা মুছে গিয়েছে বাজার থেকে। যার ফলে বিএসইর মোট বাজার মূলধন প্রায় ৪৬৫ লক্ষ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

শুক্রবারের এই পতন কেবল একটি নির্দিষ্ট খাতে সীমাবদ্ধ ছিল না। ধাতু স্টকের পতন দিয়ে দিনের শুরু। হিন্ডালকো ইন্ডাস্ট্রিজ নিফটিতে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে, যার দাম ৬% এরও বেশি পড়েছে। হিন্দুস্তান ইউনিলিভারের ৪ শতাংশেরও বেশি পতন হয়েছে। আদানি এন্টারপ্রাইজেসের শেয়ার প্রায় ৪% কমেছে, যেখানে ওএনজিসি-র ৩% এরও বেশি পতন হয়েছে। টাটা স্টিল, টাইটান কোম্পানি এবং কোল ইন্ডিয়াতেও পতন দেখা গিয়েছে। দিনের শেষে সবক’টিই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে বন্ধ হয়েছে। আদানি পোর্টস, পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া এবং উইপ্রোর শেয়ারের পতন লক্ষ করা গিয়েছে। নিফটির শীর্ষ ছ’টি ক্ষতিগ্রস্থ সংস্থার মধ্যে পাঁচটিই ছিল আইটি হেভিওয়েট। যার মধ্যে রয়েছে ইনফোসিস, এইচসিএল টেকনোলজিস, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, উইপ্রো এবং টেক মাহিন্দ্রা।

ধাতুর শেয়ারের পতন বিশ্বব্যাপী পণ্যের চাহিদা নিয়ে উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে, FMCG এবং জ্বালানি স্টকের পতন ঝুঁকি থেকে সরে আসার মনোভাবের ইঙ্গিত। যখন বিভিন্ন সেক্টরের হেভিওয়েট স্টক একসঙ্গে পড়ে যায়, তখন এটি প্রাতিষ্ঠানিক বিক্রয়ের ইঙ্গিত দেয়। উভয় সূচকের সাম্প্রতিক উচ্চতা থেকে নেমে আসা, শুক্রবারের সংশোধনী মূল্যায়ন উদ্বেগ এবং স্বল্পমেয়াদী মুনাফা বুকিংয়ের ফলে এই পতন বলে উল্লেখ বিশেষজ্ঞদের। অস্থির বিশ্ব পরিস্থিতি এবং অনিশ্চিত বিদেশী তহবিল প্রবাহের কারণে বিনিয়োগকারীরা তাঁদের ঝুঁকি পুনর্মূল্যায়ন করছেন বলে মনে হচ্ছে।

&t=1s

এখন বিশেষজ্ঞরা ভাবতে শুরু করেছেন যে, এই পতন সাময়িক নাকি গভীর পতনের সূচনা মাত্র। বিনিয়োগকারীদের মনে জোর আনার জন্য নিফটিকে মূল সাপোর্ট জোনের উপরে ধরে রাখতে হবে। যদি বিক্রি অব্যাহত থাকে, তাহলে আসন্ন সেশনগুলিতে অস্থিরতা বেশি হতে পারে। আপাতত, ১,০০০-পয়েন্টের পতন বাজারের আত্মবিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ব্যবসায়ীরা নজর রাখছেন বাজারের উপর।