আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের বিভিন্ন রাজ্য সরকার ৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী নাগরিকদের জন্য যে সরকারি পরিচয়পত্র প্রদান করে, সেটিই হল সিনিয়র সিটিজেন কার্ড। এই কার্ডটি বয়স্ক নাগরিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি, যা অনেক ক্ষেত্রে আধার কার্ডের বিকল্প পরিচয়পত্র হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। এর মাধ্যমে প্রবীণরা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সুবিধা লাভ করতে পারেন।
সিনিয়র সিটিজেন কার্ডধারীরা স্বাস্থ্যসেবা, ভ্রমণ ও আর্থিক ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পান। সরকারি হাসপাতালগুলোতে তারা বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পেতে পারেন এবং অনেক বেসরকারি হাসপাতালেও ছাড়মূল্যে চিকিৎসার সুযোগ থাকে।
এছাড়া রাজ্য পরিবহন সংস্থার বাস এবং কিছু বিমান সংস্থায় টিকিট বুকিংয়ের সময় ভ্রমণ ছাড় প্রদান করা হয়। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ফিক্সড ডিপোজিট বা রিকারিং ডিপোজিট খোলার সময় প্রবীণরা সাধারণ গ্রাহকদের তুলনায় বেশি সুদের হার পেয়ে থাকেন। আয়কর আইনের অধীনে প্রবীণ নাগরিকরা বছরে সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়কর ছাড় সুবিধা পেতে পারেন। এটা বাড়তি সুবিধা।
এই কার্ডটি বসবাসের প্রমাণপত্র হিসেবেও কাজ করে এবং বিভিন্ন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কল্যাণমূলক প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়। এমনকি ভারতীয় উচ্চ আদালতগুলোতে প্রবীণ নাগরিকরা এই কার্ডের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির তারিখের আবেদন করতে পারেন।
সিনিয়র সিটিজেন কার্ডের জন্য অনলাইন ও অফলাইন—উভয় পদ্ধতিতে আবেদন করা যায়। অনলাইনে আবেদন করতে হলে প্রথমে জাতীয় সরকারি পরিষেবা পোর্টাল (India.gov.in) ভিজিট করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ওয়েবসাইটে গিয়ে সিনিয়র সিটিজেন কার্ডের আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে প্রয়োজনীয় নথি ও পাসপোর্ট সাইজ ছবি আপলোড করতে হবে। নির্ধারিত ফি প্রদান করে আবেদন জমা দিলেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
অফলাইনে আবেদন করতে হলে নিজ রাজ্যের ‘সেবা কেন্দ্র’ বা স্থানীয় তহসিলদারের অফিসে যেতে হবে। সেখান থেকে আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করে সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে। সাধারণত ১০ টাকা ফি জমা দিয়ে আবেদন সম্পন্ন করা যায়।
সর্বোপরি, সিনিয়র সিটিজেন কার্ড প্রবীণ নাগরিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক নথি, যা তাদের জীবনযাত্রাকে আরও নিরাপদ ও সুবিধাজনক করে তোলে।
