আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাজেটের পরে বেশ খানিকটা পতন লক্ষ্য করা গিয়েছিল সোনার দামে। এরপর থেকে সোনার দাম ঊর্ধ্বগামী। এই দৌড় সহজে থামবে না বলেই বিশ্বাস অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। বুধবার সোনার দাম প্রতি আউন্স ৫০০০ মার্কিন ডলারের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। এই সপ্তাহে বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারের উত্থান-পতন অদূর ভবিষ্যতে বুলিয়ানের উপর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। দুর্বল মার্কিন ডলার (USD) এবং দুর্বল মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড ক্ষতির পরিমাণ কমাতে সাহায্য করছে, লোকসান সীমিত রাখছে এবং নিকট ভবিষ্যতে সোনার দামের সীমা ধরে রাখছে।

গত সপ্তাহে সোনার দ্বিমুখী গতিবিধি ছিল। প্রাথমিকভাবে রেকর্ড উচ্চতা থেকে সংশোধনের সময় বিনিয়োগকারীদের লাভ বুকিং, উচ্চ বিনিময় মার্জিন এবং মার্কিন ডলারের প্রত্যাবর্তনের ফলে অনেকেই সোনা বিক্রি করতে শুরু করে দেন এর ফলে দাম কমতে শুরু করে। গত শুক্রবার স্পট দাম প্রায় ৪% বৃদ্ধি পেয়ে ৪,৯৬৫ ডলারের কাছাকাছি বন্ধ হয়। 

কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সোনার চাহিদা এখনও তুঙ্গে। চিনের পিবিওসি টানা ১৫তম মাসের জন্য সোনা যোগ করেছে তাদের মজুদে। যা টেকসই সরকারি-ক্ষেত্রের সোনা ক্রয়ের চাহিদাকে তুলে ধরেছে। এর ফলে সোনার দামের পতন সচরাচর দেখা যাবে বলে মনে হয় না। দীর্ঘমেয়াদে দাম বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ক্রয় (২০২৬ সালে ৭০০-৭৫০ টন প্রত্যাশিত), ইটিএফ, রিজার্ভে বৈচিত্র্য এবং সুদের হারে প্রত্যাশার কারণে দীর্ঘমেয়াদে সোনার ভাল দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

হলুদ ধাতুটি একটি বেস দাম তৈরি করার চেষ্টা করছে। ৫০০০ হাজার মার্কিন ডলারে এখন স্বল্পমেয়াদী লক্ষ। আরও কিছুদিন এই দাম ধরে রাখলে সোনার দাম প্রতি আউন্সে ৫০৯০ থেকে ৫১৪০ ডলার পর্যন্ত যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দাম ধরে রাখতে ব্যর্থ হলে দাম ৪৭৫০ মার্কিন ডলারে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফেডেরাল রিজার্ভের সুদের হার কমানো, ডলারের দিকনির্দেশনা এবং ফেডের স্বাধীনতা নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগের বিষয়ে স্পষ্টতার জন্য বাজারগুলি মার্কিন চাকরি এবং মুদ্রাস্ফীতির তথ্যের উপর নজর রেখেছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ক্রমাগত ক্রয়, বিশেষ করে চিন থেকে, স্বল্পমেয়াদী ট্রেডিং সত্ত্বেও দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েই যাচ্ছে।

ডিসেম্বর মাসে হেডলাইন রিটেল সেলস স্থিতিশীল থাকা সত্ত্বেও, মার্কিন খুচরো বিক্রয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান নিয়ে ব্যবসায়ীরা বিশেষ কোনও প্রতিক্রিয়া দেখাননি। বুধবার বিলম্বিত নন-ফার্ম পে-রোল (NFP) রিপোর্ট এবং শুক্রবার ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) প্রকাশের দিকে নজর সকলের।

সোমবার ব্লুমবার্গ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজার-ঝুঁকি সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে চিন দেশীয় ব্যাঙ্কগুলিকে মার্কিন ট্রেজারিগুলিতে তাদের এক্সপোজার কমাতে অনুরোধ করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায়, মার্কিন ট্রেজারি ইল্ডস দুর্বল হতে শুরু করেছে। বেঞ্চমার্ক ১০-বছরের ইল্ডে টানা দ্বিতীয় দিন পতন দেখা গিয়েছে।