আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে ডিজিটাল পেমেন্টের জগতে আরবিআই বড় পরিবর্তনের কথা ভাবছে। প্রতিদিনের জীবনে ইউপিআই -র মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে টাকা পাঠানো এখন স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু সেই দ্রুততার মাঝেই বাড়ছে অনলাইন জালিয়াতির ঝুঁকি। এই প্রেক্ষিতে আরবিআই এমন একটি প্রস্তাব এনেছে, যাতে নির্দিষ্ট বেশি টাকার লেনদেনে ১ ঘণ্টার বিলম্ব বা ‘কুলিং পিরিয়ড’ চালু করা হতে পারে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, অ্যাকাউন্ট-টু-অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফার, বিশেষ করে ইউপিআই -র মাধ্যমে ১০,০০০ টাকার বেশি লেনদেন সঙ্গে সঙ্গে সম্পন্ন হবে না। বরং, টাকা প্রেরকের অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হলেও সেটি ১ ঘণ্টা পর্যন্ত ‘হোল্ড’ করে রাখা হবে। এই সময়ের মধ্যে যদি ব্যবহারকারীর মনে হয় তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন বা ভুল করে টাকা পাঠিয়েছেন, তাহলে লেনদেনটি বাতিল করার সুযোগ পাবেন।
এই ‘বাফার টাইম’ শুধু গ্রাহকদের জন্যই নয়, ব্যাঙ্কগুলির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হবে। এই সময়ে ব্যাঙ্কগুলি লেনদেনের উপর অতিরিক্ত নজরদারি চালাতে পারবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনও গ্রাহক হঠাৎ একটি নতুন অ্যাকাউন্টে বড় অঙ্কের টাকা পাঠাতে চান, তাহলে সেটি সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে আবার নিশ্চিত করতে বলা হবে। প্রয়োজনে, পুনরায় অনুমোদন ছাড়া লেনদেন সম্পূর্ণ নাও হতে পারে।
আরবিআই-র এই পদক্ষেপের মূল কারণ হল ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল প্রতারণা। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, ১০,০০০ টাকার বেশি লেনদেন মোট প্রতারণার প্রায় ৪৫ শতাংশ ক্ষেত্রে ঘটে, কিন্তু মোট আর্থিক ক্ষতির প্রায় ৯৮.৫ শতাংশ এই লেনদেনগুলির মাধ্যমেই হয়। ফলে বড় অঙ্কের লেনদেনই এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
এই নতুন প্রস্তাবে বয়স্ক নাগরিক এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ৭০ বছরের বেশি বয়সী গ্রাহক বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৫০,০০০ টাকার বেশি লেনদেনে ‘ট্রাস্টেড পার্সন’-এর অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। এর উদ্দেশ্য হল ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ ধরনের প্রতারণা রোধ করা, যেখানে প্রতারকরা ব্যবহারকারীদের নিজেই টাকা পাঠাতে প্রলুব্ধ করে।
তবে, সব ধরনের লেনদেনে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। দৈনন্দিন খরচ যেমন দোকানে পেমেন্ট, সাবস্ক্রিপশন বা চেকের মাধ্যমে লেনদেন—এসব ক্ষেত্রে কোনও বিলম্ব থাকবে না। পাশাপাশি, ব্যবহারকারীরা চাইলে ‘হোয়াইটলিস্ট’ ফিচারের মাধ্যমে বিশ্বস্ত প্রাপকদের তালিকা তৈরি করতে পারবেন, যাতে তাঁদের কাছে টাকা পাঠাতে কোনও দেরি না হয়।
&t=546s
উল্লেখ্য, এটি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। আরবিআই এই প্রস্তাব নিয়ে জনমত আহ্বান করেছে, যার শেষ তারিখ ৮ মে। প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি এই নিয়ম কার্যকর হয়, তাহলে ডিজিটাল পেমেন্টের গতি কিছুটা কমতে পারে। তবে নিরাপত্তার দিক থেকে এটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।















