আজকাল ওয়েবডেস্ক:  বিশ্বের অস্থিরতার প্রেক্ষিতে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখল আরবিআই। বুধবার গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা ঘোষণা করেন, মুদ্রানীতি কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের পর থেকে এই হার আর পরিবর্তন করা হয়নি।


গভর্নর জানান, বর্তমান বিশ্বের পরিস্থিতি—বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত—বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। তাই এই মুহূর্তে সুদের হার পরিবর্তনের বদলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করাই বেশি যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেছে এমপিসি। একই সঙ্গে স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি রেট ৫ শতাংশ এবং মার্জিনাল স্ট্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি ও ব্যাঙ্ক রেট ৫.৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আরবিআই তাদের ‘নিউট্রাল’ নীতিগত অবস্থানও বজায় রেখেছে।


কেন সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হল
গভর্নর মালহোত্রা বলেন, গত মুদ্রানীতি বৈঠকের পর থেকে রাজনৈতিক ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে মধ্য এশিয়ার সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে সতর্কভাবে এগোনোই শ্রেয় বলে মনে করছে আরবিআই। 
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত কারণে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। “হেডলাইন ইনফ্লেশন এখনও লক্ষ্যমাত্রার নিচে রয়েছে, তবে ভবিষ্যতে ঊর্ধ্বমুখী ঝুঁকি বেড়েছে,” মন্তব্য গভর্নরের।


কোর ইনফ্লেশন ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা
আরবিআই জানিয়েছে, কোর ইনফ্লেশন আপাতত নিয়ন্ত্রিত থাকলেও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং দ্বিতীয় দফার মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে। অর্থাৎ, এখনকার চাপ ভবিষ্যতে আরও বড় আকার নিতে পারে। এই কারণেই MPC আপাতত ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ নীতি গ্রহণ করেছে।


বৃদ্ধি শক্তিশালী, তবুও সতর্কতা
অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আরবিআই ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সির সূচকগুলি দেখাচ্ছে যে ভোগ ও বিনিয়োগের জোরে অর্থনীতি এখনও শক্তিশালী গতিতে এগোচ্ছে। তবে গভর্নর সতর্ক করেছেন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এই প্রবৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
তার মতে, জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে, যা সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিকে ধাক্কা দিতে পারে।


অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
আরবিআই একাধিক ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেশি থাকলে আমদানি খরচ বাড়বে, যার ফলে মুদ্রাস্ফীতি এবং চলতি হিসাবের ঘাটতি বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি, জ্বালানি ও পণ্য বাজারে অস্থিরতা শিল্প ও কৃষি উভয় ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলতে পারে।


এছাড়াও, দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা বিনিয়োগ, ভোগ এবং তারল্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সরবরাহের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা ভবিষ্যতে চাহিদার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।


আগামীর দিশা
তবে সব ঝুঁকি সত্ত্বেও আরবিআই মনে করছে, আগের সংকটগুলির তুলনায় ভারতীয় অর্থনীতি এখন অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখবে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।

&t=546s
সব মিলিয়ে, বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে আরবিআই একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সতর্ক কৌশল নিয়েছে—যেখানে বৃদ্ধি বজায় রাখা এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।