আজকাল ওয়েবডেস্ক:  ইরানকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ করেই বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। সেই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতেও। বেসরকারি তেল সংস্থা নায়ারা এনার্জি পেট্রলের দাম লিটার প্রতি ৫ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৩ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ায় ইনপুট কস্ট বেড়ে গেছে। ফলে সেই বাড়তি খরচের একটি অংশ সরাসরি ভোক্তাদের ওপর চাপানো হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধি ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে, যা বহুদিনের স্থিতিশীলতার পর প্রথম বড়সড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। 


ভারতে মোট প্রায় ১ লক্ষের বেশি পেট্রল পাম্পের মধ্যে প্রায় ৬,৯৬৭টি পরিচালনা করে নায়ারা। ফলে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব দেশের বড় অংশের জ্বালানি বাজারে পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতে মূল্যবৃদ্ধি শুরু হলে অন্যান্য সংস্থার ওপরও চাপ বাড়তে পারে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হল আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি। ইরানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘর্ষের ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর জেরে ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। 


উল্লেখযোগ্যভাবে, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি অনেক সময় সরকারের নীতিগত সহায়তা পায়, যার ফলে তারা দাম বাড়াতে দেরি করে। কিন্তু নায়ারার মতো বেসরকারি সংস্থাগুলিকে সরাসরি বাজারের ওঠানামার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। তাই আন্তর্জাতিক দামের চাপ পড়তেই দ্রুত দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


এদিকে, এই মূল্যবৃদ্ধির খবরে অনেক জায়গায় পেট্রল পাম্পে ভিড় বাড়তে দেখা গেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে আগামী দিনে আরও দাম বাড়তে পারে। ইতিমধ্যেই শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত ডিজেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা পরিবহন খরচ বাড়িয়ে সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে।


বর্তমানে ভারতের জ্বালানি বাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, অন্যদিকে সরবরাহ শৃঙ্খলের চাপ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় মূল্যবৃদ্ধি দেখা যেতে পারে।

 


সব মিলিয়ে, নায়ারা এনার্জির এই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। এখন দেখার, সরকার ও অন্যান্য তেল সংস্থাগুলি এই পরিস্থিতিতে কী পদক্ষেপ নেয় এবং ভবিষ্যতে জ্বালানির দাম কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।