আজকাল ওয়েবডেস্ক: পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রিতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক নতুন নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, শিল্প, বাণিজ্যিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্থাগুলি আর সাধারণ পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানি কিনতে পারবে না। এবার থেকে তাদের অনুমোদিত বাল্ক ফুয়েল সাপ্লাই পয়েন্ট থেকেই পেট্রোল ও ডিজেল সংগ্রহ করতে হবে।
সরকারের দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চাপে পড়েছে। অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে ভারতে বাল্ক জ্বালানির দামে। এই পরিস্থিতিতে বহু বড় শিল্প সংস্থা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি পাওয়ার জন্য সাধারণ পেট্রোল পাম্পের দিকে ঝুঁকছিল। এর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ জ্বালানির ওপর চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, দেশের কিছু এলাকায় খুচরো পেট্রোল পাম্পে পেট্রোল ও ডিজেলের বিক্রি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছে। কারণ, শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকরা বাল্কের পরিবর্তে খুচরো পাম্প থেকে জ্বালানি কিনছিলেন।
বিশেষ করে ডিজেলের ক্ষেত্রে দামের পার্থক্য ছিল উল্লেখযোগ্য। উদাহরণ হিসেবে, দিল্লিতে খুচরো পাম্পে ডিজেলের দাম ছিল লিটারপ্রতি প্রায় ৯৫ টাকা, অথচ বাল্ক ডিজেলের দাম ছিল প্রায় ১৩৪ টাকা। এই বড় মূল্য ব্যবধানের কারণে কারখানা, নির্মাণ সংস্থা, বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীরা খুচরো পাম্প থেকেই বিপুল পরিমাণ ডিজেল কিনছিলেন।
সরকারের মতে, এই প্রবণতা চলতে থাকলে স্থানীয় স্তরে জ্বালানির ঘাটতি তৈরি হতে পারে এবং সাধারণ গাড়িচালকদের জন্য জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। তাই সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কারা এই নিয়মের আওতায় পড়বেন?
নতুন নির্দেশ মূলত বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান, কারখানা, নির্মাণ সংস্থা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সংস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যারা নিয়মিত বড় পরিমাণে জ্বালানি ব্যবহার করে। এবার থেকে তাদের অনুমোদিত বাল্ক সরবরাহকারী সংস্থার কাছ থেকেই জ্বালানি সংগ্রহ করতে হবে।
তবে সাধারণ গাড়িচালকদের জন্য কোনও পরিবর্তন নেই। ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল বা অন্যান্য যানবাহনের জন্য আগের মতোই পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানি কেনা যাবে।
এছাড়া সরকার ডিজেল অনুমোদিত পাত্রে বিক্রির ক্ষেত্রেও নতুন সীমা বেঁধে দিয়েছে। এখন থেকে প্রতিদিন একজন গ্রাহক বা একটি গাড়িকে সর্বোচ্চ ২০০ লিটার ডিজেল অনুমোদিত কন্টেনারে দেওয়া যাবে। সেই জ্বালানি পুনরায় বিক্রি করা যাবে না।
সরকারের আশঙ্কা, যদি বড় শিল্প সংস্থাগুলি কম দামের সুযোগ নিয়ে খুচরো পাম্প থেকেই জ্বালানি কিনতে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানির সরবরাহে সমস্যা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি মজুতদারি, অননুমোদিত ক্রয় এবং জ্বালানি পাচারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
এই নতুন নির্দেশ আপাতত ৯০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে। প্রয়োজনে কেন্দ্র সরকার নতুন নির্দেশ জারি করে এর মেয়াদ বাড়াতে পারে। বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট অঞ্চল, সংস্থা বা লেনদেনের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, সাধারণ গ্রাহকদের জন্য পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি কেনার নিয়মে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। সরকারের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল বড় শিল্প ও বাণিজ্যিক সংস্থাগুলিকে খুচরো জ্বালানির সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত রাখা এবং সাধারণ মানুষের জন্য পেট্রোল ও ডিজেলের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা।
















