আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে থাকা কর্মচারী ভবিষ্যনিধি-র টাকা ফেরত পাওয়া এবার আরও সহজ হতে চলেছে। ভবিষ্যতে গ্রাহকদের আর আলাদা করে আবেদন না করেও তাঁদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের বকেয়া অর্থ এবং প্রাপ্য সুদ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যেতে পারে। এই লক্ষ্যেই কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক এবং এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন একটি বিশেষ পাইলট প্রকল্প চালু করেছে, যেখানে ইতিমধ্যেই ১.১৮ লক্ষ নিষ্ক্রিয় EPF অ্যাকাউন্ট সফলভাবে যাচাই করা হয়েছে।
যাচাই করা অ্যাকাউন্টগুলিকে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের সক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর আপগ্রেড সম্পূর্ণ হলেই যোগ্য গ্রাহকদের PF-এর বকেয়া অর্থ এবং জমা হওয়া সুদ কোনও আলাদা আবেদন ছাড়াই সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে PF তুলতে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে নাও হতে পারে।
৭.১১ লক্ষ নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট নিয়ে শুরু হয়েছে পাইলট প্রকল্প
EPFO-র এই পাইলট প্রকল্পে মোট ৭.১১ লক্ষ নিষ্ক্রিয় EPF অ্যাকাউন্ট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই অ্যাকাউন্টগুলিতে ১,০০০ টাকা বা তার কম অর্থ জমা রয়েছে। সব মিলিয়ে এসব অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০.৫২ কোটি টাকা দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রথম ধাপে ছোট অঙ্কের নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টগুলিকে লক্ষ্য করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি আপগ্রেডের কাজ জোরকদমে
এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করতে সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অফ অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং-কে EPFO-র প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্ম উন্নত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি EPFO 2.01 সংস্কার কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আগে চালু হওয়া ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর ব্যবস্থার উপর ভিত্তি করেই নতুন স্বয়ংক্রিয় ক্লেম সিস্টেম তৈরি করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে অর্থ ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়।
'পেনি ড্রপ' পদ্ধতিতে ব্যাঙ্ক তথ্য যাচাই
নিষ্ক্রিয় EPF অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য যাচাই করতে EPFO 'পেনি ড্রপ' প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। এই পদ্ধতিতে অতি সামান্য পরিমাণ অর্থ পাঠিয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বৈধতা নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি, মৃত গ্রাহকদের শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের তথ্যের ভিত্তিতে রেকর্ডও আপডেট করা হয়েছে। যদিও তথ্য যাচাইয়ের কাজ অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে, তবুও স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার আপডেটের কাজ এখনও চলছে।
বর্তমানে PF তুলতে গ্রাহকদের অনলাইনে বা অফলাইনে আলাদা করে দাবি জমা দিতে হয়। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় চালু হতে চলেছে 'System-generated Claim'। এর ফলে যোগ্য গ্রাহকদের জন্য EPFO নিজেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্লেম তৈরি করবে এবং আবেদন ছাড়াই তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেবে। শ্রম মন্ত্রকের সূত্রের দাবি, আগামী মাসের শেষ নাগাদ প্রযুক্তিগত সংযুক্তিকরণের কাজ শেষ হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে এই স্বয়ংক্রিয় PF ফেরতের ব্যবস্থা চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এখনও অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা
শ্রম মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দশকে প্রায় ৩১.৮৬ লক্ষ নিষ্ক্রিয় EPF অ্যাকাউন্টে মোট ১০,৯০৩ কোটি টাকা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, কোনও EPF অ্যাকাউন্টে টানা ৩৬ মাস কোনও নতুন অবদান জমা না পড়লে সেটিকে নিষ্ক্রিয় হিসেবে গণ্য করা হয়। এরপর সেই অ্যাকাউন্টে আর সুদও যোগ হয় না। তাই এই নতুন স্বয়ংক্রিয় ক্লেম ব্যবস্থা চালু হলে লক্ষ লক্ষ গ্রাহকের দীর্ঘদিনের আটকে থাকা PF-এর টাকা ফেরত পাওয়ার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
















