আজকাল ওয়েবডেস্ক: আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ জুলাই। এখনও যাঁরা রিটার্ন জমা দেননি, তাঁদের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ITR দাখিল না করলে শুধু জরিমানাই নয়, সুদ, কর-সংক্রান্ত অতিরিক্ত দায় এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হতে পারেন করদাতারা।


কর বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩১ জুলাইয়ের পরেও ITR জমা দেওয়া সম্ভব। তবে সেটি বিলম্বিত রিটার্ন হিসেবে গণ্য হবে। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচ এবং ভবিষ্যতে করের বোঝা বেড়ে যেতে পারে।


সবচেয়ে বড় ক্ষতির মধ্যে রয়েছে ক্যাপিটাল লস বা ব্যবসায়িক ক্ষতি ভবিষ্যতের জন্য বহন করার সুবিধা হারানো। যদি শেয়ার বিক্রি করে ক্ষতি হয়ে থাকে বা ব্যবসায় লোকসান হয়ে থাকে, তাহলে সময়সীমার মধ্যে রিটার্ন না জমা দিলে সেই ক্ষতি ভবিষ্যতের আয়ের সঙ্গে সমন্বয় করার সুযোগ নাও মিলতে পারে। ফলে আগামী বছরগুলিতে বেশি কর দিতে হতে পারে।


এছাড়াও, যদি কোনও কর এখনও বাকি থাকে, তাহলে দেরি হলে Section 234A অনুযায়ী প্রতি মাসে বা মাসের অংশের জন্য ১ শতাংশ হারে সুদ ধার্য হতে পারে। যত বেশি দেরি হবে, ততই সুদের অঙ্ক বাড়তে থাকবে।


শুধু তাই নয়, অনেক করদাতার ক্ষেত্রে সময়মতো রিটার্ন না জমা দিলে পুরনো কর ব্যবস্থা বেছে নেওয়ার সুযোগও প্রভাবিত হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের ব্যবসা বা পেশাগত আয় রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়োয় ভুল না করে সমস্ত তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নেওয়া উচিত। AIS, Form 26AS, TDS-এর তথ্য, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, সব ধরনের আয়ের তথ্য এবং প্রাপ্য করছাড় ঠিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। রিটার্ন জমা দেওয়ার পরে ই-ভেরিফিকেশন করাও অত্যন্ত জরুরি, নইলে রিটার্ন সম্পূর্ণ বলে গণ্য হবে না।


সময়সীমার মধ্যে ITR জমা দিলে জরিমানা ও সুদের হাত থেকে যেমন রক্ষা পাওয়া যায়, তেমনই দ্রুত রিফান্ড পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে। পাশাপাশি কর-অনুগত্যের একটি ভালো রেকর্ড বজায় থাকে। তাই প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত থাকলে শেষ দিনের অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

&t=128s