আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বেতন, পেনশন, ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধার সংশোধনের লক্ষ্যে গঠিত ৮ম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। রাজ্যসভায় লিখিত উত্তরে মন্ত্রক জানিয়েছে, কমিশনকে তাদের কাজের অগ্রগতি, সম্ভাব্য সুপারিশ বা আলোচনার বিবরণ নিয়মিতভাবে কেন্দ্রকে জানাতে হবে—এমন কোনও বাধ্যবাধকতা কমিশনের টার্মস অব রেফারেন্স নেই।


২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর কেন্দ্র সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ম বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশনের চেয়ারপার্সন হিসেবে নিয়োগ করা হয় বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন প্রফেসর পুলক ঘোষ, আর সদস্য-সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন পঙ্কজ জৈন। কমিশনকে গঠনের দিন থেকে ১৮ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই হিসেবে ২০২৭ সালের মে-জুন নাগাদ কমিশনের সুপারিশ জমা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


টার্মস অব রেফারেন্সে কী বলা হয়েছে?
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর ৮ম বেতন কমিশনের টার্মস অব রেফারেন্স অনুমোদন করে। এই নথিতেই কমিশনের কাজের পরিধি, দায়িত্ব, উদ্দেশ্য এবং কার্যপ্রণালী নির্ধারণ করা হয়েছে। হিসেব অনুযায়ী, কমিশন নিজস্ব পদ্ধতিতে আলোচনা, পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে এবং তাদের কাজের প্রতিটি ধাপের অগ্রগতি সরকারকে জানানো বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ চালাতে পারবে।


রাজ্যসভায় কী জানাল অর্থ মন্ত্রক?
রাজ্যসভার সাংসদ জাভেদ আলি খান কমিশনের অগ্রগতি, কর্মচারী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক এবং বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর জবাবে কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী জানান, কমিশনের টার্মস অব রেফারেন্সে কোথাও উল্লেখ নেই যে, তারা সরকারকে নিয়মিত অগ্রগতির রিপোর্ট দেবে। কমিশন নিজস্ব পদ্ধতিতে কাজ করবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেবে।


রিপোর্ট কবে জমা পড়তে পারে?
সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কমিশনকে গঠনের ১৮ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সেই হিসেবে আগামী মে-জুন ২০২৭ নাগাদ ৮ম বেতন কমিশনের সুপারিশ সরকারের হাতে পৌঁছতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


এর আগে কমিশনের স্টেকহোল্ডার বৈঠক ৬-৭ জুলাই ভুবনেশ্বর এবং ৯-১০ জুলাই কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন বেতন কাঠামো, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, ভাতা ও পারিবারিক ইউনিটের সংজ্ঞা-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেছে। এখন কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন লক্ষ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগী।