বাড়ির আনাচে কানাচে তাঁদের দেখলেই গা ঘিনঘিন করে ওঠে। বাড়ির মহিলারা তাদের দেখলেই আঁতকে ওঠেন। যে কোনও আবহাওয়ার ঘরোয়া পরিবেশের আরাম, পুষ্টি খুঁজে পেতে বাড়ির কোনায় খোঁজ মেলে তাদের।
2
15
এই প্রাচীন প্রজাতির পোকামাকড় তাদের মানব সঙ্গীদের জন্য সম্পূর্ণ নিরীহ নয়। কথা হচ্ছে আরশোলাদের নিয়ে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, ডায়নোসরদের আগেও পৃথিবীতে বিচরণ করতো এই আরশোলারা।
3
15
একটি আকর্ষণীয় জীবাশ্ম আবিষ্কার করে গবেষকরা প্রথমে ভেবেছিলেন যে, আরশোলার আবির্ভাব হয়েছিল ৩০ কোটি বছর আগে কার্বনিফেরাস যুগে। যা ডাইনোসরদেরও অনেক আগে।
4
15
নতুন তত্ত্ব প্রমাণ করেছে যে, যেগুলিকে আরশোলার জীবাশ্ম বলে মনে করা হচ্ছিল, সেগুলো আসলে ছিল ‘রোচয়েড’— এমন এক ধরনের পতঙ্গ যা প্রেয়িং ম্যান্টিস এবং আরশোলার পূর্বপুরুষ।
5
15
ড. ডমিনিক অ্যান্থনি ইভানজেলিস্টা এবং মনপ্রীত কোহলি, ‘ওল্ড, বাট নট দ্যাট ওল্ড’ (এন্টোমলজি টুডে, ১০ অক্টোবর, ২০১৭) প্রবন্ধে লিখেছেন, “বর্তমানে, সবচেয়ে পুরোনো পরিচিত তেলাপোকার জীবাশ্মগুলো জুরাসিক যুগের শেষ এবং ক্রিটেশিয়াস যুগের শুরুর দিকের (প্রায় ১২-১৩ কোটি বছর আগের)।”
6
15
ভূতাত্ত্বিক সময়ের পার্থক্য যাই হোক না কেন, আরশোলা যুগ যুগ ধরে টিকে আছে। পরিবর্তনশীল পরিবেশ, মহাদেশের স্থান পরিবর্তন, হিমযুগ ও গ্রিনহাউস যুগ, এমনকি ডাইনোসর বিলুপ্তকারী গ্রহাণুর মতো প্রতিকূলতার মধ্যেও এই পতঙ্গগুলি পৃথিবীতে বিচরণ করার জন্য নিজেদেরকে মানিয়ে নিয়েছে। যা বেশ আশ্চর্যজনক।
7
15
পৃথিবীর কোন স্থানে আরশোলারা নেই? শুধুমাত্র আন্টার্কটিকা ছাড়া সম্পূর্ণ পৃথিবীতে রাজত্ব করছে আরশোলারা। অবশ্য সমস্ত কিছুকে জমিয়ে দেওয়া আন্টার্কটিকায় আরশোলারা তিনদিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।
8
15
নিজেকে বাঁচানোর এমন সব গুণ আরশোলার আছে যে পৃথিবীতে পরমাণু যুদ্ধ বাঁধলেও তারা বেঁচে থাকবে। বিজ্ঞানীদের দাবি, আরশোলার ক্ষুদ্র শরীর বিশালাকায় ডাইনোসরদের তুলনায় ৩২ গুণ বেশি মজবুত।
9
15
বিশ্বজুড়ে আরশোলা ৩,৫০০-এরও বেশি প্রজাতির এক বিশাল বংশ রয়েছে। আরশোলা বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং এবং কমপ্লেক্সেও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকে। শীতকালে, এই পোকাগুলি আলো থেকে দূরে ফাটল ও খাঁজের মধ্যে আরাম করে থাকে এবং কেবল খাবার ও প্রজননের জন্য বাইরে আসে।
10
15
এক্টোবিডি পরিবারের অন্তর্গত জার্মান আরশোলার ডানা আছে কিন্তু এটি উড়তে পারে না। জার্মান আরশোলা ব্লাটেলা জার্মানিকাস অত্যন্ত দলবদ্ধ স্বভাবের। আরশোলার দলবদ্ধ হওয়ার প্রবণতা নিয়ে অনেক গবেষণাও হয়েছে।
11
15
খাদ্যের উৎসের কাছাকাছি থেকে, আরশোলারা অন্ধকার হলে তাদের লুকোনোর জায়গা থেকে চুপিচুপি বেরিয়ে আসে। তারা মানুষকে ভয় পায় এবং যথাসম্ভব সংস্পর্শ এড়িয়ে চলে। এদের খাদ্যাভ্যাসে কোনও বাছবিচার নেই, এরা হাতের কাছে যা পায়, প্রায় সবই খায়।
12
15
খাবারের সন্ধানে আরশোলা মানুষকে কামড়ায় না। তাদের জীবনের অন্যতম উদ্দেশ্য হল, বংশ টিকিয়ে রাখার জন্য সঙ্গী খুঁজে নেওয়া। মিলনের কয়েক সপ্তাহ পর, পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী তেলাপোকা ‘ওথেকা’ নামক একটি প্রতিরক্ষামূলক খোলস তৈরি করে, যার ভেতরে প্রায় ৩৫টি বাদামী ডিম থাকে।
13
15
আরশোলারর শুঁড়গুলি লম্বা, সরু এবং অত্যন্ত সচল, যা তাদেরকে অন্য আরশোলার রেখে যাওয়া ফেরোমন শনাক্ত করতে সাহায্য করে। তাদের মাথা ছোট এবং নীচের দিকে অভিমুখী, সঙ্গে একজোড়া পুঞ্জাক্ষি থাকে যা তাদেরকে একই সঙ্গে একাধিক দিকে দেখতে সাহায্য করে।
14
15
আরশোলার জন্য বেশ কিছু শিকারী প্রাণী হুমকিস্বরূপ। যেমন নির্দিষ্ট কিছু মাকড়সা ও বোলতা, বড় আকারের গুবরে পোকা এবং ম্যান্টিস। ব্যাঙ, টিকটিকি, ইঁদুর, পাখি, সজারু এবং অন্যান্য প্রাণী ও উভচর প্রাণীর কাছে আরশোলা সুস্বাদু খাবার।
15
15
আরশোলা বাড়ির জন্য ক্ষতিকর না হলেও মনুষ্যস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। আবর্জনা এবং মলমূত্রের উপর দিয়ে হাঁটার ফলে এই পোকাগুলির পায়ে ও পায়ের পাতায় রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু জমা হয়। রান্নার জায়গা ও খাবার দূষিত করে এরা। এদের বিষ্ঠার মাধ্যমে সালমোনেলা, ই. কোলাই এবং অন্যান্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ে।