আজকাল ওয়েবডেস্ক: আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র দু'দিন বাকি। আগামী ৩১ জুলাই হল ২০২৬-২৭ মূল্যায়ন বর্ষের জন্য ITR জমা দেওয়ার শেষ দিন। যাঁদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা প্রযোজ্য, তাঁদের এখনই রিটার্ন দাখিল এবং ই-ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন কর বিশেষজ্ঞরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই দুটি ধাপ শেষ না হলে রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে বলে ধরা হবে না।


বর্তমানে ৩১ জুলাইয়ের সময়সীমা অপরিবর্তিত রয়েছে। এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার বা আয়কর বিভাগ শেষ তারিখ বাড়ানোর কোনও ঘোষণা করেনি। গত বছরের মতো এবছরও সময়সীমা বাড়ানো হবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব রিটার্ন জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। 


৪.৩৭ কোটির বেশি করদাতা ইতিমধ্যেই রিটার্ন জমা দিয়েছেন
আয়কর বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ৪.৩৭ কোটিরও বেশি আয়কর রিটার্ন সফলভাবে জমা পড়েছে। তবে এখনও বহু করদাতা রিটার্ন দাখিল করেননি। সময়সীমা যত এগিয়ে আসছে, ততই ই-ফাইলিং পোর্টালে চাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে শেষ মুহূর্তে প্রযুক্তিগত সমস্যা বা ভুল তথ্য জমা পড়ার ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।


মাত্র ১০ মিনিটেই ITR জমা দেওয়া সম্ভব
কর ও বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আগে থেকেই প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত থাকলে খুব অল্প সময়েই রিটার্ন জমা দেওয়া সম্ভব। Form 16, Annual Information Statement (AIS), ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য, বিনিয়োগের প্রমাণপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি আগে থেকেই যাচাই করে রাখলে এবং সঠিক কর ব্যবস্থা নির্বাচন করলে ই-ফাইলিং পোর্টালের মাধ্যমে প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যেই ITR দাখিল করা যায়।


কারা ১০ মিনিটে ITR-1 জমা দিতে পারবেন?
যাঁরা ভারতে বসবাসকারী বেতনভোগী এবং যাঁদের মোট বার্ষিক আয় ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত, পাশাপাশি সুদ ও লভ্যাংশ থেকে আয় রয়েছে, তাঁরা ITR-1 ফর্মের মাধ্যমে সহজেই রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। অনলাইন ITR-1 ফর্মে অধিকাংশ তথ্য আগেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ হয়ে থাকে। ফলে করদাতাকে শুধু তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত করতে হয়।


তবে সব করদাতা এই সুবিধা পাবেন না। কোনও কোম্পানির পরিচালক বা তালিকাভুক্ত নয় এমন ইকুইটি শেয়ারে বিনিয়োগ রয়েছে—এমন ব্যক্তিরা ITR-1 ব্যবহার করতে পারবেন না। তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অন্য ITR ফর্ম বেছে নিতে হবে।


শেষ মুহূর্তের ঝুঁকি এড়ান
বিশেষজ্ঞদের মতে, শেষ দিনে অপেক্ষা করলে ইন্টারনেট সমস্যা, পোর্টালে অতিরিক্ত চাপ কিংবা ভুল তথ্য দেওয়ার মতো সমস্যার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে সমস্ত নথি মিলিয়ে দেখুন, তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করুন এবং ই-ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ করুন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই কাজ শেষ করতে পারলে জরিমানা, অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এবং ভবিষ্যতে আয়কর বিভাগের নোটিশ পাওয়ার ঝুঁকিও অনেকটাই কমে যাবে।