আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত চিফ নেগোসিয়েটরদের বৈঠক স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বৈঠকটি মূলত দুই দেশের মধ্যবর্তী ট্রেড চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করার জন্য ওয়াশিংটনে ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে উভয় পক্ষের সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকটি নতুন কোনো সুবিধাজনক তারিখে পুনঃনির্ধারণ করা হবে।
ভারতের চিফ নেগোসিয়েটর হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রকের জয়েন্ট সচিব এই আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ভারতীয় দল তিন দিনের জন্য ওয়াশিংটনে ভ্রমণ করার পরিকল্পনা করেছিল। তবে উভয় পক্ষের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক ঘটনা বিশ্লেষণ করার পরই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।
এই পরিবর্তনের পেছনে প্রধান কারণ হল মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সম্প্রতি ঘোষিত রায়। আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বারা বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপিত ব্যাপক আমদানি শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছে। ট্রাম্প ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫০ দিনের জন্য সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যার মধ্যে ভারতও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প শনিবার ঘোষনা করেন, সব দেশের ওপর শুল্ক ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।
এর আগে, মার্কিন প্রশাসন আগস্ট ২০২৫-এ ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেছিল। পরে রাশিয়ার কাঁচা তেল কেনার কারণে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক যোগ হওয়ায় ভারতের ওপর মোট শুল্ক ৫০ শতাংশে পৌঁছে। এর মধ্যেই ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যবর্তী চুক্তির কাঠামোতে একমত হয়েছিল, যাতে ওয়াশিংটন শুল্ককে ১৮ শতাংশে নামাবে। ইতিমধ্যেই ২৫ শতাংশের প্রথম অংশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাকি ২৫ শতাংশ এখনও কার্যকর রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর, ট্রাম্প আবার ১৫ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা করেছেন। নতুন এই শুল্ক প্রযোজ্য হলে, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিমধ্যেই থাকা আমদানি শুল্কের ওপর এটি অতিরিক্তভাবে আরোপিত হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনও পণ্যের ওপর ৫ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য থাকে, তবে ১৫ শতাংশ নতুন শুল্কের সঙ্গে মিলিয়ে কার্যকর শুল্ক ২০ শতাংশ হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দুই দেশের মধ্যবর্তী বাণিজ্য সম্পর্ক এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক অ্যাজেন্ডার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। আগামী বৈঠকে শুল্কের হ্রাস, ব্যবসায়িক সুবিধা এবং ভারতীয় পণ্যের বাজারে প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার আশা করা হচ্ছে।
