আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিয়মিত বিনিয়োগের শক্তি দীর্ঘমেয়াদে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তার অন্যতম উদাহরণ হল সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান। যদি কেউ মাসে ২০,০০০ টাকা করে দীর্ঘ ৩০ বছর বিনিয়োগ করেন এবং গড়ে ১২% বার্ষিক রিটার্ন পান, তাহলে অবসরের সময় সেই তহবিল প্রায় ৩.৮ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। তবে বড় প্রশ্ন হল এই অর্থ কীভাবে এমনভাবে ব্যবহার করা যায় যাতে অবসরে মুদ্রাস্ফীতির চাপ সামলেও নিয়মিত আয় নিশ্চিত হয়? এখানেই আসে ৫% উত্তোলন কৌশল।
কী এই ৫% উত্তোলন কৌশল?
৫% উত্তোলন কৌশল হল এমন একটি পদ্ধতি যেখানে অবসরের পর আপনার মোট করপাসের ৫% প্রতি বছর তুলবেন, এবং অবশিষ্ট অর্থ বিনিয়োগে রেখে দেবেন যাতে তা বাড়তে থাকে।
উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার অবসরকালীন তহবিল ৩.৮ কোটি টাকা হয়, তাহলে প্রথম বছরে আপনি ১৯ লক্ষ টাকা তুলতে পারেন। বাকি অর্থ বাজারে বিনিয়োগ থাকলে সম্ভাব্য রিটার্ন ভবিষ্যতে তহবিলকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করবে।
মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব মোকাবিলা
অবসরে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি হল মুদ্রাস্ফীতি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবনযাত্রার খরচ বাড়ে। যদি আপনার বিনিয়োগ ১০-১২% হারে বাড়তে থাকে এবং আপনি মাত্র ৫% তুলেন, তাহলে তাত্ত্বিকভাবে অবশিষ্ট অংশ বৃদ্ধি পেতে পারে, যা ভবিষ্যতের খরচ সামলাতে সাহায্য করবে। অর্থাৎ, উত্তোলনের হার রিটার্নের চেয়ে কম রাখলে তহবিল দীর্ঘদিন টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি।
ঝুঁকি ও বাস্তবতা
তবে মনে রাখতে হবে, বাজারের রিটার্ন কখনোই নিশ্চিত নয়। খারাপ বাজার পরিস্থিতিতে তহবিলের মূল্য কমে যেতে পারে। তাই ৫% কৌশল প্রয়োগের আগে সম্পদের সঠিক বণ্টন জরুরি—যেখানে ইকুইটি, ডেট ও অন্যান্য নিরাপদ বিনিয়োগের মধ্যে ভারসাম্য রাখা হবে।
এছাড়া, স্বাস্থ্যব্যয় ও অপ্রত্যাশিত খরচের জন্য আলাদা জরুরি তহবিল রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। অবসরের পরিকল্পনা করার সময় কর-পরিকল্পনাও বিবেচনায় রাখতে হবে।
দীর্ঘমেয়াদি শৃঙ্খলার গুরুত্ব
মাসে ২০,০০০ টাকার এসআইপি দিয়ে ৩.৮ কোটি টাকার তহবিল গড়ে তোলা সম্ভব হলেও এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত বিনিয়োগ, দীর্ঘ সময়। বাজারের ওঠানামায় বিচলিত না হয়ে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়াই সাফল্যের চাবিকাঠি।
সবশেষে, ৫% উত্তোলন কৌশল অবসরে একটি টেকসই আয়ের পথ তৈরি করতে পারে, যদি বিনিয়োগ সঠিকভাবে পরিচালিত হয়। ব্যক্তিগত আর্থিক পরিস্থিতি, ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষমতা ও লক্ষ্য অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করা উচিত। প্রয়োজনে একজন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
