আজকাল ওয়েবডেস্ক: আয়কর সংক্রান্ত ডেডলাইন অনেক সময় নিঃশব্দেই সামনে চলে আসে। ব্যস্ততার মাঝে অনেক করদাতা শেষ মুহূর্তে বুঝতে পারেন যে রিটার্নে ভুল রয়ে গেছে বা অ্যাডভান্স ট্যাক্স জমা দেওয়ার সময় প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। জরিমানা, সুদ বা নোটিস এড়াতে তাই আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো জানা অত্যন্ত জরুরি।
সংশোধিত রিটার্নের শেষ তারিখ
যদি আপনি ইতিমধ্যেই আয়কর রিটার্ন (ITR) জমা দিয়ে থাকেন কিন্তু পরে দেখেন আয়, ছাড় বা অন্য কোনও তথ্য ভুল হয়েছে, তাহলে সংশোধিত রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আয়কর আইনের ধারা 139(5) অনুযায়ী, মূল্যায়ন বছরের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই সংশোধন করা যায়। সাধারণত সংশ্লিষ্ট মূল্যায়ন বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের সুযোগ থাকে (যদি সরকার আলাদা করে সময় না বাড়ায়)।
সংশোধিত রিটার্ন জমা দিতে গেলে আগের রিটার্নের ‘Acknowledgement Number’ এবং অন্যান্য তথ্য প্রয়োজন হয়। তাই নথিপত্র হাতের কাছে রাখুন এবং আয়, TDS, ফর্ম 16/16A, ব্যাংক সুদ ইত্যাদি ভালোভাবে মিলিয়ে নিন।
অ্যাডভান্স ট্যাক্সের কিস্তির সময়সীমা
যাদের করদায় ১০,০০০ টাকার বেশি (TDS বাদ দিয়ে), তাদের জন্য অ্যাডভান্স ট্যাক্স দেওয়া বাধ্যতামূলক। এটি বছরে চার কিস্তিতে জমা দিতে হয়—
১৫ জুন: মোট করের ১৫%
১৫ সেপ্টেম্বর: মোট করের ৪৫% (আগের কিস্তিসহ)
১৫ ডিসেম্বর: মোট করের ৭৫%
১৫ মার্চ: ১০০%
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অ্যাডভান্স ট্যাক্স না দিলে ধারা 234B ও 234C অনুযায়ী সুদ ধার্য হতে পারে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী, ফ্রিল্যান্সার বা যাদের নির্দিষ্ট বেতনভিত্তিক TDS কাটা হয় না, তাদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দেরি করলে কী হবে?
ডেডলাইন মিস করলে লেট ফি, সুদ এমনকি ভবিষ্যতে ঋণ বা ভিসা সংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের সময়ও সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই শেষ মুহূর্তের চাপ এড়াতে আগেভাগেই হিসাব মিলিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
সব মিলিয়ে, আয়কর সংক্রান্ত সময়সীমা সম্পর্কে সচেতন থাকাই আর্থিক পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখনই দেখে নিন—আপনার রিটার্নে কোনও সংশোধন বাকি আছে কি না বা অ্যাডভান্স ট্যাক্সের পরবর্তী কিস্তি সময়মতো দেওয়া হয়েছে কি না। সময়মতো পদক্ষেপ নিলে অপ্রয়োজনীয় জরিমানা ও ঝামেলা থেকে সহজেই বাঁচা যায়।
