আজকাল ওয়েবডেস্ক: রক্ষণশীল বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজারে একাধিক নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য আর্থিক বিকল্প রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড, ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট, কিসান বিকাশ পত্র এবং সিনিয়র সিটিজেনস সেভিংস স্কিম। সাধারণত এই ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পগুলিতে বার্ষিক সুদের হার ৬.৯% থেকে ৭.৫% এর মধ্যে থাকে।
ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পের পাশাপাশি, খুচরা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় বিনিয়োগ মাধ্যমগুলির একটি হল ফিক্সড ডিপোজিট। বিভিন্ন ব্যাঙ্ক তাদের মেয়াদি আমানতে ভিন্ন ভিন্ন হারে সুদ অফার করে। তবে অনেক বিনিয়োগকারীই দ্বিধায় থাকেন ফিক্সড ডিপোজিটে টাকা রাখবেন, না কি ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পে বিনিয়োগ করবেন। বাস্তবে, দু’টিরই আলাদা আলাদা সুবিধা রয়েছে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন।
প্রথমত, সুদের হার। যে কোনও বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্যই হল ভাল রিটার্ন পাওয়া। বর্তমানে অধিকাংশ ব্যাঙ্কে ফিক্সড ডিপোজিটে সুদের হার বার্ষিক প্রায় ৬.২৫% থেকে ৬.৪০% এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। অন্যদিকে, ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পগুলিতে সুদের হার তুলনামূলকভাবে বেশি—প্রায় ৬.৭% থেকে ৭.৫% পর্যন্ত। এই দিক থেকে দেখলে ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্প এগিয়ে।
দ্বিতীয়ত, লক-ইন পিরিয়ড। উচ্চ সুদের বিনিময়ে ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পগুলিতে সাধারণত নির্দিষ্ট লক-ইন সময় থাকে। যেমন, এনএসসি-র ক্ষেত্রে লক-ইন পিরিয়ড পাঁচ বছর এবং পিপিএফের ক্ষেত্রে তা ১৫ বছর। বিপরীতে ফিক্সড ডিপোজিটে তুলনামূলকভাবে নমনীয় মেয়াদ পাওয়া যায় এবং প্রয়োজনে জরিমানা দিয়ে আগাম ভাঙার সুযোগও থাকে।
তৃতীয়ত, আয়কর সংক্রান্ত বিষয়। ফিক্সড ডিপোজিট থেকে প্রাপ্ত সুদ বিনিয়োগকারীর আয়কর স্ল্যাব অনুযায়ী করযোগ্য। কিন্তু ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পে প্রাপ্ত সুদের উপর সাধারণত কর দিতে হয় না। যদিও পুরনো কর ব্যবস্থায় এনএসসি বা পিপিএফে বিনিয়োগের উপর করছাড়ের সুবিধা এখন আর নেই, তবুও সুদের আয় করমুক্ত থাকায় এগুলি কর সাশ্রয়ের দিক থেকে আকর্ষণীয়।
সবশেষে, একাধিক বিকল্পের সমন্বয় করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। একটি সুষম পোর্টফোলিওতে ফিক্সড ডিপোজিট এবং ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্প—দু’টিকেই জায়গা দেওয়া উচিত। এই বিনিয়োগগুলি মূলত পোর্টফোলিওর ঋণভিত্তিক অংশকে শক্তিশালী করে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও নিরাপদ রিটার্ন নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
