আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সমীক্ষা দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল আসক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন গেমিং ও ডিজিটাল বিনোদনের লাগাতার ব্যবহারে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক আচরণ ও উৎপাদনশীলতার উপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা সমীক্ষায় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতের যুবসমাজ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল ব্যবহারকারী গোষ্ঠী। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা ও সস্তা ডেটা পরিষেবার ফলে প্রযুক্তি তরুণদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। তবে এই সুবিধার পাশাপাশি বাড়ছে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম, অনিয়ন্ত্রিত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার এবং অনলাইন গেমিংয়ের প্রতি আসক্তি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে ডিজিটাল ডিভাইসে নিমগ্ন থাকার ফলে মনোযোগের ঘাটতি, উদ্বেগ, অবসাদ এবং ঘুমের সমস্যার মতো মানসিক জটিলতা বাড়ছে।
অর্থনৈতিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ডিজিটাল আসক্তি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের বিষয় নয়, বরং এটি দেশের সামগ্রিক মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তরুণরা যদি পড়াশোনা, দক্ষতা অর্জন ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের বদলে অধিকাংশ সময় ভার্চুয়াল জগতে কাটায়, তবে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়বে কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতার উপর। এতে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিও ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সমীক্ষা।
সমীক্ষায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম-নির্ভর কনটেন্ট তরুণদের আচরণ ও মানসিক গঠনে প্রভাব ফেলছে। লাইক, কমেন্ট ও ভিউয়ের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা আত্মমর্যাদা ও আত্মবিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি অনলাইন গেমিং ও ডিজিটাল বিনোদনের ক্ষেত্রে আর্থিক ঝুঁকিও বাড়ছে, বিশেষত যখন তরুণরা ইন-অ্যাপ পারচেজ বা অনলাইন বাজির মতো কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্থনৈতিক সমীক্ষা একাধিক সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুল ও কলেজ স্তরে ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং-সংক্রান্ত শিক্ষা জোরদার করা। অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো এবং শিশু-কিশোরদের জন্য স্ক্রিন টাইমের স্বাস্থ্যকর সীমা নির্ধারণের কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও সহজলভ্য ও গ্রহণযোগ্য করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সমীক্ষা এই বার্তাই দেয় যে প্রযুক্তি ভারতের উন্নয়নের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হলেও, তার সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তরুণদের ডিজিটাল দক্ষতা যেমন দেশের ভবিষ্যৎ গড়তে সাহায্য করবে, তেমনি অনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল আসক্তি সেই ভবিষ্যতের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে। তাই এখনই সচেতনতা, নীতি ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে এই সমস্যার মোকাবিলা করা প্রয়োজন।
