আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৫ সালের বাজেটে আয়করদাতাদের উল্লেখযোগ্য স্বস্তি দেওয়ার পর, কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬ নিয়ে বাজারের প্রত্যাশা কম। কর বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের পক্ষে আর বড় কোনও প্রত্যক্ষ কর-সহায়তা দেওয়ার সুযোগ সীমিত। ফলে এবারের নজর মূলত কর-প্রশাসন সরলীকরণ, চলতি পরিবর্তনের সূক্ষ্ম সংশোধন এবং কমপ্লায়েন্স সহজীকরণে পড়তে পারে, বড় ধরনের ছাড় বা নতুন সুবিধা ঘোষণা নয়।
কোন পথে যাবে সরকার?
গত কয়েক বছর ধরে সরকার নতুন কর-ব্যবস্থাকে ডিফল্ট বা প্রাথমিক কাঠামো হিসেবে এগিয়ে দিচ্ছে। একইসঙ্গে আগের কর-ব্যবস্থাও বজায় রাখা হয়েছে, যাতে যাঁদের কাছে বিভিন্ন ছাড় ও রিবেটের সুযোগ রয়েছে তাঁরা আগের কাঠামো ব্যবহার করতে পারেন।
ফলে আগামী বাজেটে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন দুটি হল—
আগের ব্যবস্থা কি বাতিল হবে?
নতুন ব্যবস্থায় কি অবশেষে ছাড়-কাটছাঁট যুক্ত করা হবে?
কর বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার নতুন ব্যবস্থাকে জনপ্রিয় করতে চাইছে ঠিকই, কিন্তু আগের ব্যবস্থাকে একেবারে তুলে দেওয়ার সম্ভাবনা আপাতত কম।
কর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারী তথ্য অনুযায়ী একটি বড় অংশ এখনও আগের ব্যবস্থা পছন্দ করেন। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে দাখিল হওয়া মোট ৭.২৮ কোটি আইটিআই মধ্যে ২.০১ কোটি রিটার্ন পুরোন কর কাঠামোর আওতায় জমা হয়েছে।
বিশেষত মধ্যবিত্ত ও বেতনের উপর নির্ভরশীল করদাতাদের জন্য আগের ব্যবস্থার ছাড়গুলি দীর্ঘদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তাই সরকারের পদক্ষেপ ধীরে ধীরে নতুন ব্যবস্থার দিকে উৎসাহ দেওয়ার দিকেই থাকবে বলে ধারণা।
২০২৬ সালের বাজেটের ‘টু-ট্র্যাক’
কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ যে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ হবে তা ভারতের কর ইতিহাসে একটি অন্যরকম মুহূর্ত। কারণ ২০২৫ সালের নতুন আয়কর আইন ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হতে চলেছে। তাই স্বাভাবিক অবস্থায় এমন বাজেটে প্রত্যক্ষ কর সংক্রান্ত বড় কোনও নীতি প্রস্তাব থাকার কথা নয়।
তাহলে করদাতারা কী আশা করতে পারেন?
বড় ধরনের ট্যাক্স-কাট নয়
নতুন রিবেট বা ডিডাকশনের সম্ভাবনা কম
নতুন কর ব্যবস্থায় ছোটখাটো সংশোধন হতে পারে
আগের ব্যবস্থা আপাতত থাকবে, কিন্তু ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারাবে
কর-বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি ও কমপ্লায়েন্স সহজীকরণে জোর
কর-ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার দিকে পদক্ষেপ
বাজেট ২০২৬ করনীতির বড় চমকের বাজেট নয়, বরং সংস্কার, স্থিতিশীলতা ও সরলীকরণের বাজেট হতে যাচ্ছে। আগের কর কাঠামো বিদায় নিচ্ছে না এখনই, কিন্তু নতুন ব্যবস্থার দিকেই ভবিষ্যৎ—এটাই বিশেষজ্ঞদের সোজা বার্তা।
