আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট খুচরো বিনিয়োগকারীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে বিনিয়োগের পরিবেশকে আরও স্বচ্ছ ও আকর্ষণীয় করতে একাধিক পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে। কর কাঠামো সংশোধন, এলটিসিজি ট্যাক্সে পরিবর্তন থেকে শুরু করে সেভিংস ও বীমা সেক্টরে নয়া নির্দেশ—সব মিলিয়ে এই বাজেট শেয়ারবাজার, বন্ড মার্কেট ও সঞ্চয়প্রবণ মধ্যবিত্তদের হিসেব পাল্টে দিতে পারে।
অর্থমন্ত্রীর নজরে
২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য কেন্দ্রীয় ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার বা ক্যাপেক্স ব্যয় আরও বৃদ্ধি করা হতে পারে। পরিকাঠামো—রাস্তা, রেল, বন্দর, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক—এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়লে সংশ্লিষ্ট সেক্টরের শেয়ারগুলিতে চাহিদা ও মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে। খুচরো বিনিয়োগকারীরা ইতিমধ্যেই ক্যাপেক্স থিমে আগ্রহী; বাজেটের পর কনস্ট্রাকশন, সিমেন্ট, স্টিল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ক্যাপিটাল গুডস সেক্টর নজরে রাখতে পারেন। দীর্ঘমেয়াদে উন্নয়নমূলক ব্যয় সাধারণত বাজারে স্থিতিশীলতার বার্তা দেয়।
এলটিসিজি কর কাঠামোতে পরিবর্তন
খুচরো বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল এলটিসিজি ট্যাক্সে পরিবর্তন। বাজেটে দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভ করের হার ও ধরে রাখার মেয়াদে সূক্ষ্ম সংশোধন করা হতে পারে। এর ফলে ইকুইটি, মিউচুয়াল ফান্ড ও ডেট স্কিমে বিনিয়োগের প্ল্যানিং নতুন করে সাজাতে হবে। কর সাশ্রয় করতে লং-টার্ম ডিসিপ্লিনড ইনভেস্টিং আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
স্মল সেভিংস স্কিমে আকর্ষণীয় সংশোধন
সুকন্যা সমৃদ্ধি, এনএসসি, পিপিএফ, সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিমসহ একাধিক ছোট সঞ্চয় প্রকল্পে সুদের হার বা বিনিয়োগ সীমা নিয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘোষণা করা হতে পারে। মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্ত নাগরিক যাঁরা স্থির আয় ও কম ঝুঁকির সঞ্চয় খোঁজেন, তাঁদের জন্য এটি বড় স্বস্তি হতে পারে। ইকুইটির ঝুঁকি না নিয়ে সেভিংসও যে লাভজনক হতে পারে, সেই বার্তাও থাকতে পারে এই বাজেটে।
বীমা ও পেনশন সেক্টরে স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগ
বাজেটে বীমা ও পেনশন পণ্যে ডিসক্লোজার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হতে পারে। কমিশন, চার্জ ও নীতির শর্ত স্বচ্ছ করা হলে খুচরো বিনিয়োগকারীরা বেশি আত্মবিশ্বাসে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। বীমা পলিসি ও পেনশনে ভুল তথ্য বা জটিল শর্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ ছিল, বাজেটের এই পদক্ষেপ সেই সমস্যা কিছুটা দূর করতে পারে।
স্টক মার্কেট ও ডিজিটাল ট্রেডিংয়ে সহজ প্রক্রিয়া
ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট, ব্রোকারেজ, এসটিটি ও রিপোর্টিং নিয়মে সহজীকরণ আনার ঘোষণা করা হতে পারে। নতুন বিনিয়োগকারীরা যাতে সহজে বাজারের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন, সেটাই এখানে প্রধান উদ্দেশ্য হবে। ডিজিটাল অনবোর্ডিং, ই-কে ওয়াই সি, ও ট্যাক্স রিপোর্টিং সহজ হলে মিউচুয়াল ফান্ড, ইটিএফ ও ব্রোকারেজ অ্যাপ ব্যবহারের প্রবণতা বাড়বে। খুচরো বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক।
বাজেট ২০২৬ বিনিয়োগবান্ধব ও ভবিষ্যতকেন্দ্রিক। খুচরো বিনিয়োগকারীদের জন্য কর পরিকল্পনা, সঞ্চয় বণ্টন ও নতুন ঝুঁকির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে হবে। তাই সামগ্রিকভাবে এই বাজেট পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা, পরিকাঠামোতে গতি ও আর্থিক পণ্যে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেবে। এটি ভারতের অর্থনীতির গতিকে আরও মজবুত করবে।
