আজকাল ওয়েবডেস্ক:  ভারতে ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন করে সামনে এসেছে এমন এক প্রস্তাব, যেখানে বলা হয়েছে—দেশে বিক্রি হওয়া প্রতিটি নতুন স্মার্টফোনে আগে থেকেই ইনস্টল করা থাকবে আধার অ্যাপ। তবে এই উদ্যোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই আপত্তি তুলেছে বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি, বিশেষ করে অ্যাপেল এবং স্যামসং। 


সূত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে সরকার গোপনে মোবাইল নির্মাতাদের কাছে এই প্রস্তাব রাখে। উদ্দেশ্য ছিল, নাগরিকদের কাছে আধার পরিষেবাকে আরও সহজলভ্য করা এবং ডিজিটাল ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াকে দ্রুত করা। আধার এখন ভারতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র, যা ব্যাংকিং, ভর্তুকি, ট্যাক্স এবং সরকারি পরিষেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।


সরকারের যুক্তি, যদি আধার অ্যাপ প্রতিটি স্মার্টফোনে আগে থেকেই থাকে, তাহলে ব্যবহারকারীদের আলাদা করে অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে না। এতে ডিজিটাল পরিষেবার প্রসার বাড়বে এবং প্রতারণা রোধেও সাহায্য করবে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি সুবিধাজনক হতে পারে।


তবে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির উদ্বেগ একাধিক বিষয়ে। প্রথমত, ব্যবহারকারীর স্বাধীনতা—কোন অ্যাপ থাকবে বা থাকবে না, তা ব্যবহারকারীরই সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। বাধ্যতামূলকভাবে কোনও অ্যাপ প্রি-ইনস্টল করা হলে তা ‘ব্লোটওয়্যার’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। দ্বিতীয়ত, গোপনীয়তা এবং ডেটা নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও আধার অ্যাপ সরকার-সমর্থিত, তবুও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি ব্যবহারকারীর ডেটা ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক থাকতে চায়।


অ্যাপেল বরাবরই তাদের ডিভাইসে প্রি-ইনস্টলড অ্যাপ নিয়ে কঠোর নীতি অনুসরণ করে। তারা সাধারণত শুধুমাত্র নিজস্ব বা প্রয়োজনীয় সিস্টেম অ্যাপ রাখে। অন্যদিকে স্যামসংও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা ও ডিভাইসের পারফরম্যান্সের কথা বিবেচনা করে অতিরিক্ত অ্যাপ যুক্ত করতে অনিচ্ছুক।


আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব। যদি ভারতে বিক্রি হওয়া ফোনে আলাদা করে এই ধরনের শর্ত আরোপ করা হয়, তাহলে তা গ্লোবাল উৎপাদন ও সফটওয়্যার নীতির সঙ্গে সমস্যা তৈরি করতে পারে। ফলে কোম্পানিগুলিকে আলাদা ভার্সন তৈরি করতে হতে পারে, যা তাদের জন্য খরচসাপেক্ষ।


তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং বিভিন্ন পক্ষের মতামত নেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা, প্রযুক্তিগত বাস্তবতা এবং বাজারের প্রভাব—সব দিক বিবেচনা করা জরুরি।

 


সব মিলিয়ে, আধার অ্যাপকে প্রতিটি স্মার্টফোনে বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব একদিকে যেমন ডিজিটাল ভারতের স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, তেমনই অন্যদিকে প্রযুক্তি সংস্থা ও ব্যবহারকারীদের মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত সরকার ও কোম্পানিগুলির মধ্যে কী ধরনের সমঝোতা হয়।