রিয়া পাত্র:  ‘DEBT SUSTAINABILITY OF SUBNATIONAL GOVERNMENTS IN INDIA
LESSONS FROM INTERNATIONAL DEBT CRISES’, ২০২৫ বইমেলায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উদ্বোধন করেন এই বইয়ের। বইটি লিখেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। 

হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবা (আইএএস) এর একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। রাজ্যের মুখ্যসচিব-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে গুরুভার পালন করেছেন দীর্ঘকাল। একই সঙ্গে লিখেছেন নারীর ক্ষমতায়ন, গ্রামীণ উন্নয়ন, ঋণের স্থায়িত্ব, রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন, রাজস্ব একীকরণ এবং রাজস্ব ফেডারেলিজম-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে, যা সমাজের জন্য জরুরি, প্রয়োজনীয়। নতুন বইয়ে তিনি শুধু তুলে ধরলেন না, নিখুঁত বিশ্লেষণ করলেন ‘ঋণ’-এর। 

 ভারতের অর্থনীতিতে ‘ঋণ’ এক মস্ত বড় আলোচনার বিষয়। দেশের অর্থনীতির সঙ্কট থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ বিভিন্ন সময় ঋণ গ্রহণকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করেছেন। অর্থাৎ চার্বাক পন্থী হওয়া সবসময় ভুল কিংবা অন্যায়, এমনটা ভেবে নেওয়ার কোনও কারণ নেই। দার্শনিকভাবে ‘ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ’ সবসময় আকাঙ্খিত নয়, কিন্তু ঋণ নিয়ে কাঠামোর উন্নয়ন, নতুন জাতি গঠনের দৃষ্টান্ত আমাদের দেশে, অন্যত্র রয়েছে বহু।

 মনমোহন সিং অর্থমন্ত্রী থাকার সময়ও সেকাজ করেছেন। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ঋণের সমস্যা নিয়ে ফাইনান্স কমিশন অনেক আলোচনা করেছে। কিন্তু সমাধানের প্রসঙ্গ উঠলে, সেক্ষেত্রে নানা মুনির নানা মত। 

পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী এই প্রসঙ্গে সুষ্টভাবে আলোকপাত এবং বিশ্লেষণ করেছেন তাঁর লেখা নতুন বইটিতে। তুলে ধরেছেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে এই উপমহাদেশে ঋণ কীভাবে একটি আর্থিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেমন শ্রীলঙ্কা। দেশের চরম সঙ্কট, চীনের থেকে ঋণ নিয়ে তাদের দুরাবস্থা, অর্থনীতর সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া, রাজনীতিতে গভীর প্রভাব, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি। পাকিস্তানও ঋণ-জর্জর। ভারতের উপরেও রয়েছে ঋণের বোঝা, কিন্তু এক্ষেত্রে ঋণের বোঝা থাকলেও কখনওই  শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, বাংলাদেশের পরিস্থিতি হয়নি। এই ঋণ নিয়ে কীভাবে কাজা লাগানো যেতে পারে তার সমাধানের রাস্তাগুলি নিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যসচিব। 

উল্লেখ্য, অর্থ কমিশন ঋণগ্রস্ত রাজ্য হিসেবে কেরল, বাংলা, পাঞ্জাবকে চিহ্নিত করে। প্রণব মুখোপাধ্যায় অর্থমন্ত্রী থাকার সময় এক্সপেন্ডিচার সেক্রেটারিকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, অর্থ কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে এই ঋণগ্রস্ত রাজ্যগুলিকে কীভাবে সাহায্য দিয়ে এই ঋণ থেকে বের করে আনা যায়। হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী তাঁর বইয়ে দেখিয়েছেন, এই ঋণ কীভাবে লাভজনকভাবে বিনিয়োগের মতো কাজে লাগিয়ে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাঙ্ক, উপভোক্তা সমাজের সর্বক্ষেত্রে কাজে লাগানো যেতে পারে।  বইয়ের দু’ মলাটের ভিতর গুছিয়ে এই আলোচনা অভিনব।