মিল্টন সেন, হুগলি: বাড়ির সামনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হলো এক যুবককে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে হুগলি স্টেশন সংলগ্ন লোহারপাড়া এলাকায়। নিহত যুবকের নাম সঞ্জয় রাজবংশী(২৭)। রবিবার গভীর রাতে বাড়ির একেবারে সামনে গলায় মাথায় কুপিয়ে খুন করা হয় যুবককে।
জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে এক শীতের রাতে ভিক্ষুককে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে খুনের দায়ে অভিযুক্ত সঞ্জয়। সেই মামলায় দীর্ঘদিন জেলে ছিল সে। বছরখানেক আগে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিল। তবে এলাকায় থাকতো না। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যায় দিদির বাড়িতে থাকত। কিছুদিন আগে হুগলিতে ফিরে আসে। টোটো চালানো শুরু করে। গতকাল সন্ধায় বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল পুজোর ভোগ খেতে যাওয়ার কথা বলে। রাত একটা নাগাদ বাড়ির সামনে শব্দ পেয়ে বেরিয়ে আসে পরিবারের সদস্যরা। রক্তাক্ত অবস্থায় সঞ্জয়কে উদ্ধার করে চুঁচুড়া ইমামবার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ব্যান্ডেল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তমাল মোহান্তি। আসেন ডিসি চন্দননগর অলকানন্দা ভাওয়াল, আইসি রামেশ্বর ওঝা প্রমুখ পুলিশ আধিকারিকেরা। ঘটনাস্থল ঘিরে দেওয়া হয়। এলাকায় বসানো হয় পুলিশ পিকেট। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে চুঁচুড়া থানার পুলিশ। তবে খুনি এক না একাধিক তা এখনও স্পষ্ট জানা যায়নি। পুলিশের অনুমান, পুরনো শত্রুতার জেরে খুন হতে পারে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে এলাকায় হনুমান পুজোর খাওয়াদাওয়া ছিল। গভীর রাত পর্যন্ত বক্স বেজেছে। গভীর রাতে সেখানে থেকে গোলমালের শব্দ পাওয়া গিয়েছে। যদিও ঘটনাটি ঘটেছে অনুষ্ঠানস্থল থেকে একশো মিটার দূরে। জেল থেকে বেরিয়ে সে এলাকায় থাকত না। চলে গিয়েছিল আত্মীয়ের বাড়ি অযোধ্যায়। দোলের আগে বাড়িতে ফিরেছিল। কয়েকদিন থাকার পরে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আবার আত্মীয়র বাড়ি চলে গিয়েছিল। দিন দশেক আগে আবার ফিরে এসে টোটো চালাচ্ছিল। দোষীর শাস্তির দাবি করেছে যুবকের পরিবার।
ছবি পার্থ রাহা।
















