মিল্টন সেন: দেশের শান্তি ও সৌহার্দ্য কামনায় আয়োজিত বিশ্ব ইজতেমায় লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর সমাগম হয়েছে হুগলিতে। তবে জানানো হচ্ছে, এই ধর্মীয় সম্মেলন শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য নয়। 

উপস্থিত সকলেই দেশবাসীর শান্তি ও মঙ্গলের জন্য প্রার্থনা করছেন। আট থেকে আশি, সব বয়সের মানুষই সামিল হয়েছেন শান্তির প্রার্থনায়।

আয়োজকদের স্পষ্ট বক্তব্য, বিশ্ব ইজতেমা সম্পূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। এই বিষয়ে একমত পুণ্যার্থীরাও। দীর্ঘ ৩২ বছর পর আবারও বাংলার মাটিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা।

হুগলি জেলার ধনেখালি বিধানসভার অন্তর্গত পুঁইনান গ্রামে এই বিশাল ধর্মীয় সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। প্রায় ৬০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই সম্মেলনের সূচনা হয়েছে শুক্রবার হুগলির দাদপুরে।

শুক্রবার সকাল থেকেই হাজার হাজার মুসলিম ধর্মাবলম্বী ইজতেমা ময়দানে পৌঁছতে শুরু করেন। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও দেশের নানা প্রান্ত এবং বিদেশ থেকেও বহু পুণ্যার্থী এই ইজতেমায় যোগ দিতে এসেছেন।

ইজতেমা শুরুর দিন সকাল থেকেই পোলবা, দাদপুর ও সংলগ্ন একাধিক এলাকার রাস্তাঘাটে ভিড় উপচে পড়ে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা দেশ থেকে প্রায় ৯০ লক্ষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের সমাগম হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

সেই কারণে জেলা প্রশাসনের তরফে আগাম পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দাদপুর থানার অন্তর্গত পুঁইনান গ্রামের অবস্থান মূলত দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ও দিল্লি রোডকে সংযোগকারী ১৭ নম্বর রুটে।

পুণ্যার্থীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের মহেশপুর মোড় এবং দিল্লি রোডের সুগন্ধা মোড় এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি ১৭ নম্বর রুটে বড় যান চলাচলের উপর নো এন্ট্রি জারি করা হয়েছে। বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন হয়েছে হুগলি গ্রামীণ পুলিশ জেলার আওতায়।

তবে চন্দননগর কমিশনারেট এলাকার অধীনে একাধিক রেল স্টেশন মারফত পুণ্যার্থীরা পুঁইনানের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন। সুদূর দিল্লি থেকে ইজতেমায় যোগ দিতে আসা মহম্মদ আমির জানান, এই সম্মেলনে অংশ নিতে পারাটাই তাঁদের কাছে অত্যন্ত সৌভাগ্যের।

দীর্ঘ ৩২ বছর পর বাংলার মাটিতে আবার এমন বৃহৎ ইসলামিক সমাবেশ হচ্ছে। সেই কারণে কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করেও তাঁরা টানা চার দিন ইজতেমা ময়দানে থাকবেন।

ছবি: পার্থ রাহা