শ্রেয়সী পাল: রাজ্যে বিধানসভা ভোটের দিন ঘোষণা হওয়ার আগেই বড়সড় ধাক্কা খেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর কয়েক মাস আগে নিজের নতুন রাজনৈতিক দল,জনতা উন্নয়ন পার্টি (জেইউপি), প্রতিষ্ঠা করেছেন হুমায়ুন।
তবে সূত্রের খবর, হুমায়ুন কবীরকে নিজের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের নাম ভোটের আগেই পরিবর্তন করতে হবে। দলের নাম পরিবর্তন না করলে হুমায়ুন কবীরের দলের কোনও প্রার্থী জেইউপি নাম ব্যবহার করে ভোটে লড়তে পারবেন না। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন," এরকম একটি ঘটনা হয়েছে। তাই আমাদের দলের নাম 'অল ইন্ডিয়া জনতা উন্নয়ন পার্টি' বা 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি' হতে পারে।"
সূত্রের খবর পাঁশকুড়ার বাসিন্দা জনৈক রুহুল নামে এক ব্যক্তি ২০২৪ সালে তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল 'জাতীয় উন্নয়ন পার্টি'র ( জে ইউ পি) রেজিস্ট্রেশন জাতীয় নির্বাচন কমিশনে করিয়ে রেখেছেন।তার ফলে হুমায়ুন কবীরের প্রতিষ্ঠিত নতুন রাজনৈতিক দল, জেইউপি ,লেখায় নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছে।
হুমায়ুন কবীর প্রতিষ্ঠিত জনতা উন্নয়ন পার্টির এক নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে আমাদের একটি প্রতিনিধি দল গিয়েছিল। সেখানে আমরা জানতে পারি জেইউপি নাম রেখে আমরা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করতে পারবো না। এর পরই গোটা বিষয়টি দলের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরকে জানানো হয়।
সূত্রের খবর, হুমায়ুন কবীরের নির্দেশে দলের নতুন নাম কী হবে তা ঠিক করতে এটি ছোট 'কোর কমিটি' তৈরি করা হয় এবং সেই কমিটির তরফ থেকে দু'টি নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।
&t=21sপ্রসঙ্গত, জেইউপি দলের চেয়ারম্যান হিসেবে ইতিমধ্যেই হুমায়ুন কবীর রেজিনগরের বিভিন্ন এলাকায় দেওয়াল দখল করে ভোট প্রচার শুরু করেছেন। তাঁর দলের কয়েকজন প্রার্থীও মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন বিধানসভায় এলাকায় জেইউপি দলের প্রার্থী হিসেবে নিজেদের প্রচার শুরু করেছেন।
অন্যদিকে হুমায়ুন কবীর প্রতিষ্ঠিত জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থীদের প্রতীক কী হবে তাও এখনও চূড়ান্ত হয়নি। হুমায়ুন কবীর জানান," আমরা ১৫ টি প্রতীক চিহ্ন জাতীয় নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছিলাম। তার মধ্যে থেকে একটি প্রতীক নির্বাচন কমিশন আমাদেরকে দেবে। আপাতত তিনটি প্রতীক চিহ্ন চূড়ান্ত হয়ে রয়েছে। আগামী ১০ তারিখের মধ্যেই আমার রাজনৈতিক দলের নাম এবং দলীয় প্রতীক চূড়ান্ত হয়ে যাবে বলেই নির্বাচন কমিশন সূত্রে আমি জানতে পেরেছি।"
সূত্রের খবর যে রাজনৈতিক দলের নামের সঙ্গে হুমায়ুন কবীর প্রতিষ্ঠিত জনতা উন্নয়ন পার্টির নামের মিল থাকা নিয়ে নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে সেই জাতীয় উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা রুহুল আমিন এবং তাঁর সমর্থকদেরকে হুমায়ুন কবীরের তরফ থেকে তাঁর নিজের রাজনৈতিক দলের জোটে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে মাদক পাচারের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রবিবার কোচবিহারের বক্সিরহাট থানার পুলিশ বহরমপুর পুরসভার বিরোধী দলনেতা তথা মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের এসসি -এসটি সেলের সভাপতি হীরু হালদারকে একটি নোটিশ পাঠিয়েছে। রবিবার দুপুরে তিনি যখন একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলেন সেই সময় পুলিশ তাঁর বাড়িতে নোটিশটি পৌঁছে দেয় বলে জানা গিয়েছে।
বহরমপুর পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলরু হীরু হালদারকে আগামী ৪ মার্চ সকাল দশটার সময় শ্রীদাম সেন নামে অপর এক ব্যক্তির সঙ্গে বক্সিরহাট থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি কোচবিহারের বক্সিরহাট থানার পুলিশ প্রায় ছ'হাজার বোতল একটি বিশেষ কাশির সিরাপ উদ্ধার করে। পুলিশি তদন্তে সেই মামলায় হীরু হালদার এবং শ্রীদাম সেন নামে মুর্শিদাবাদের দুই ব্যক্তির নাম উঠে আসে।
হীরু হালদার বলেন," শ্রীদাম সেন একজন ব্যবসায়ী এবং কংগ্রেস কর্মী। আমি নিজে অধীর চৌধুরীর একনিষ্ঠ সৈনিক। গত ছ'মাসের মধ্যে আমি মুর্শিদাবাদ জেলার বাইরে যাইনি। ভোটের আগে মিথ্যে মামলায় আমাকে জড়িয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের তরফ থেকে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এই নোটিশ পাঠানোর মধ্যে দিয়ে পুলিশ কংগ্রেস কর্মীদেরকে ভয় দেখাতে চাইছে। আমাদের নেতা অধীর চৌধুরী যে নির্দেশ দেবেন আমরা তা পালন করব।" সূত্রের খবর হীরু হালদারের নাম আগামী বিধানসভা নির্বাচনে নবগ্রাম কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে বিবেচনার মধ্যে রয়েছে।
জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানান," অধীর ঘনিষ্ঠ হীরু হালদারের বিরুদ্ধে বহরমপুর এবং কান্দি থানায় কমপক্ষে ১৪ টি মামলার রয়েছে। অস্ত্র আইন সহ অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ছাড়াও হীরু হালদার মাদক পাচারের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন জেলবন্দী ছিলেন। ভোটের আগে ফের একবার হীরু হালদারের নাম মাদক পাচারের মামলায় জড়িয়ে যাওয়ায় জেলা কংগ্রেসের অভ্যন্তরের শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
পুলিশের ওই আধিকারিক জানান শ্রীদাম হালদারের বিরুদ্ধেও বহরমপুর থানায় একাধিক মামলা রুজু রয়েছে।
