আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রাণের থেকেও স্ত্রীকে বেশি ভালবাসতেন। সেই স্ত্রীর নাম ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া শেষে বাদ যেতে পারে, এমন আশঙ্কায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল রাজ্যের আরও এক ব্যক্তির। মৃত ব্যক্তির নাম জয়নাল আনসারী (৪০)। তাঁর বাড়ি মুর্শিদাবাদের ডোমকল ব্লকের ভগীরথপুর অঞ্চলের ফতেপুর হাটপাড়া এলাকায়।
হাওড়া জেলার মানিকপুর এলাকায় স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ওই ব্যক্তির বৃহস্পতিবার মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবার মুর্শিদাবাদ জেলায় তাঁর দেহ আনার ব্যবস্থা করা হয় তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক জয়নাল আনসারীর সঙ্গে প্রায় বছর দশেক আগে হাওড়ার মানিকপুর এলাকার রেখা বিবি নামে এক মহিলার বিয়ে হয়। রাজ্য জুড়ে ভোটার তালিকার যে বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া চলছে তাতে খসড়া তালিকায় জয়নালের নাম থাকলেও তাঁর স্ত্রীর নাম ওঠেনি। ফলে তাঁকে গ্রামের ৫৪ নম্বর বুথের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়ার শুনানিতে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সূত্রের খবর, জয়নালের স্ত্রীর কাছে তাঁর নামের সঠিক বানান সংক্রান্ত কিছু প্রয়োজনীয় নথি না থাকায় তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লে স্ত্রীকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে এই আতঙ্কে বৃহস্পতিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাওড়ায় মানিকপুর এলাকায় স্ত্রীর বাড়িতে জয়নালের মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। শুক্রবার জয়নালের দেহ মুর্শিদাবাদের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।
ভগীরথপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য ঝন্টু শেখ বলেন ,"জয়নাল বিভিন্ন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে রাজমিস্ত্রির কাজ করত। কোনও কারনে জয়নালের স্ত্রীর নাম খসড়া ভোটার তালিকায় ওঠেনি। তাঁকে কিছু নথি নিয়ে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। কিন্তু জয়নালের আশঙ্কা ছিল এসআইআর প্রক্রিয়ার শুনানি শেষে তাঁর স্ত্রীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে। সেক্ষেত্রে তাঁর স্ত্রীকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠানো হতে পারে। এই আতঙ্কে জয়নাল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন।তৃণমূলের তরফ থেকেই আমরা তাঁর দেহ গ্রামের বাড়িতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেছি।"
মৃত জয়নাল আনসারীর প্রতিবেশী ইকবাল সঈদ আনসারী বলেন," গ্রামে অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিল জয়নাল। সে স্ত্রীকে প্রচন্ড ভালোবাসত। গত প্রায় একমাস ধরে জয়নাল হাওড়ার মানিকপুর এলাকায় স্ত্রীর সঙ্গেই থাকছিল।"
তিনি বলেন, "আমরা জানতে পেরেছি জয়নালের স্ত্রীর নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। কিন্তু জয়নাল আতঙ্কে ছিল স্ত্রীর নাম এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে এবং সে ক্ষেত্রে তাঁর স্ত্রীকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এই আশঙ্কায় জয়নাল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছে।'
তৃণমূল পরিচালিত মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের ডোমকল থেকে নির্বাচিত সদস্য তজিমউদ্দিন খান বলেন, "অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। বিজেপির নিষ্ঠুরতার জন্য একের পর এক মানুষের প্রাণ চলে যাচ্ছে, এর থেকে খারাপ কিছু হতে পারে না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং আমাদের নেতা অভিষেক ব্যানার্জির নির্দেশে আমরা তৃণমূলের সৈনিকরা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছি। কোনও বৈধ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে না।"
তিনি বলেন," মৃত ব্যক্তির এক সন্তান রয়েছে এবং তাঁর স্ত্রী সাত মাসের সন্তান সম্ভবা। এই পরিবারে দায়িত্ব কি এখন নির্বাচন কমিশন বা বিজেপি নেবে?"
