আজকাল ওয়েবডেস্ক: মে মাসের শুরুতেই হায়দরাবাদের এক সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে বাড়ি থেকে কাজ করার পরামর্শ দেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সঙ্কটের কথা মাথায় রেখেই এই নির্দেশ দিয়েছিলেন মোদি। এ বার প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ মেনে পরীক্ষামূলক ভাবে বাড়ি থেকে কাজের নির্দেশিকা জারি করল বিকাশ ভবন। সরকারি কর্মীদের জন্য জারি করা হয়েছে মোট ছ'দফা ব্যবস্থার কথা জানানো হয়েছে নির্দেশিকায়।
বিকাশ ভবনের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, স্কুল শিক্ষা কমিশনার-সহ স্কুল শিক্ষা দফতরের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বিভিন্ন সময়ে বাড়ি থেকে কাজ করবেন। বাড়ি থেকে কাজ করার রুটিন ঠিক করা হবে পর্যায়ক্রমিকভাবে। জানানো হয়েছে, এর প্রধান উদ্দেশ্য, পেট্রোল-ডিজেল চালিত গাড়ির ব্যবহার কমানো। তাই, কোন আধিকারিক কবে কার্যালয়ে আসবেন এবং কখন কোন গাড়ি বেরোবে তার একটি তালিকা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। চালু করতে হবে কার পুলের ব্যবস্থা। এর জন্য বিভাগের ডেপুটি সেক্রেটারিকে কার পুলের রস্টার তৈরি করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে নির্দেশিকায়। এই নির্দেশিকা শুধুমাত্র উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের জন্য প্রযোজ্য। যদিও প্রয়োজনে তাঁদের কার্যালয়ে ডাকাও হতে পারে।
পাশাপাশি আধিকারিকদের জন্য নির্দেশ, তাঁরা যেন অকারণে ভ্রমণ না করেন। সমস্ত সরকারি কাজই ডিজিটাল মাধ্যমে করতে হবে আধিকারিকদের। ডিজিটাল মাধ্যম ছাড়াও কোনও নথি ব্যবহার করতে হলে নির্দিষ্ট কার্যালয়ের প্রধানদের থেকে নিতে হবে অনুমতি। এমনকি জরুরি বৈঠকেরও আয়োজন করতে হবে ভিডিয়ো কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে। অকারণে ফোটোকপি বা নথি ছাপানোর উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে প্রকাশিত নির্দেশিকায়।
এ ছাড়া, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বিকাশ ভবনে বিদ্যুৎ ব্যবহারের উপরও নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। সে ক্ষেত্রে লিফ্ট-এর ব্যবহারেও রাশ টানা হতে পারে। সন্ধ্যা ৭টার পর অতিরিক্ত আলো জ্বালানো বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, পরীক্ষামূলক ভাবেই এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে বিকাশ ভবনের তরফে। আওতায় রাখা হয়েছে শুধুমাত্র উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের। যাতে সরকারি কাজ কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সে দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের অন্যান্য দপ্তরেরও বাড়ি থেকে কাজ করার ব্যবস্থাও চালু করা হবে শীঘ্রই।
















