বিভাস ভট্টাচার্য: তরুণ প্রজন্মের কাছে নিজেদের আদর্শ আরও বেশি করে তুলে ধরতে এরাজ্যে আগামী আগস্ট মাস থেকে 'যুব সম্মেলন' করতে চলেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ বা আরএসএস। যা চলবে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। যেখানে সব মিলিয়ে ১ কোটি যুবক অংশগ্রহণ করবেন। এই সম্মেলনে তুলে ধরা হবে দেশ, ধর্ম এবং সংস্কৃতির কথা। আরএসএস-এর ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গোটা দেশ জুড়ে যে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে এটি তার মধ্যে অন্যতম। 

 

আরএসএস-এর একটি সূত্র জানিয়েছে, এলাকায় এলাকায় এই কর্মসূচি পালন করা হবে। পৌর এলাকার ক্ষেত্রে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে এবং পঞ্চায়েত এলাকায় ব্লক স্তরে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। বিষয়টি এমন নয় যে এক জায়গায় ১ কোটি যুবককে জড়ো করে সেখানে তাঁদের সামনে সংঘের আদর্শ প্রচার করা হবে। সংঘের একটি সূত্র জানিয়েছে, এই সম্মেলনে তুলে ধরা হবে সমাজ গঠনে যুবকদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। সংঘের কার্য কর্তারা ছোট ছোট করে বৈঠক করছেন এলাকায় এলাকায়। 

 

১৯২৫ সালের বিজয়া দশমীর দিন ডাঃ কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার নাগপুরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ বা আরএসএস প্রতিষ্ঠা করেন। গত ২০২৫ সালের বিজয়া দশমীতে যার ১০০ বছর পূর্তি হয়েছে। ওই দিনটি থেকেই সংঘের তরফে মোট সাতটি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। যা চলবে এবছর বিজয়া দশমী পর্যন্ত। গতবছর বিজয়া দশমীর দিন হয়েছে 'স্বয়ং সেবক একত্রীকরণ'। এবছর জানুয়ারি মাসে হয়েছে 'হিন্দু সম্মেলন'। যেখানে যোগ দিয়েছিলেন সাধুসন্তরা। 

 

১০০ বছর পূর্তির এই বিশেষ কর্মসূচিতে ছিল 'সদভাবনা'। যেখানে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষ বা উদাহরণ হিসেবে বলা যায় তফসিলি সম্প্রদায়ের মতো মানুষদের উন্নয়নে তাঁদের এক জায়গায় আনার মতো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল। ছিল 'গৃহ সম্পর্ক'। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তুলে ধরা হয়েছিল সংঘের কথা। ছিল 'প্রবুদ্ধ নাগরিক সম্মেলন'। গত ডিসেম্বর মাসে সমাজের বিদ্বান ও গুনীজনদের নিয়ে সভা করা হয়েছিল। আগামী আগস্ট মাসে হবে যুব সম্মেলন। শেষ পর্যায়ে হবে 'শাখা'। যা চলবে টানা ১০ দিন। মহালয়ার দিন থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত। প্রসঙ্গত, শাখা বলতে বোঝায় যেখানে প্রতিদিন স্বয়ং সেবকরা মিলিত হন। রাজ্যে এই মুহূর্তে সংঘের শাখার সংখ্যা ৫,০০০। এবার ১০,০০০ জায়গায় শাখা হবে। যেখানে প্রতিদিন মিলিত হবেন স্বয়ং সেবকরা।