দীক্ষা ভুঁইয়া: রাজ্যে শিল্পায়নের গতি বাড়াতে ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন কৌশল নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। কর্পোরেট মডেলে বিভিন্ন দেশে কনসালট্যান্ট নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাঁদের মূল দায়িত্ব হবে বিদেশি শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাকে সম্ভাবনাময় শিল্প গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা। সোমবার নবান্নে শিল্প সংক্রান্ত মন্ত্রীগোষ্ঠীর প্রথম বৈঠকে এই বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।

একইসঙ্গে রাজ্যের শিল্পের জন্য বরাদ্দ হলেও দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকা জমির তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, কোথায় কত জমি রয়েছে এবং কোন জমি শিল্পের কাজে ব্যবহার করা সম্ভব, তার একটি পূর্ণাঙ্গ ডেটাব্যাঙ্ক তৈরি করা।

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম বৈঠকেই দেখা যায় আগের সরকারের আমলে জমি সংক্রান্ত কোনও সুসংহত তথ্যভাণ্ডার তৈরি হয়নি। ফলে বিভিন্ন দপ্তরের কাছে থাকা তথ্য একত্রিত করে নতুন করে জমির তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসন তিন ধরনের জমি চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে- শিল্পের জন্য বরাদ্দ হলেও অব্যবহৃত জমি, সরকারি মালিকানাধীন জমি এবং এমন জমি যা বর্তমানে সরকার বা বেসরকারি কোনও সংস্থার কার্যকর ব্যবহারে নেই। প্রয়োজনে বেসরকারি সংস্থার হাতে থাকা কিন্তু অব্যবহৃত জমি পুনরুদ্ধারের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।

বৈঠকে আরও জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই রাজ্যে একাধিক বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। সেই প্রস্তাবগুলির বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ও পরিকাঠামো নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বিদেশে কনসালট্যান্ট নিয়োগের পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে তাঁরা সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন এবং নতুন সরকারের শিল্পবান্ধব নীতি ও বাংলায় বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরবেন।

নবান্নে এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, পরিবহণ ও শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং-সহ বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, বিনিয়োগ, জমি এবং শিল্প সম্প্রসারণের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে মন্ত্রীগোষ্ঠীর পরবর্তী বৈঠক শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হবে।