বিউ সরকার: রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্রে রদবদল ও স্বচ্ছতা আনতে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বিকাশ ভবনে শিক্ষা দপ্তরের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী দিনে রাজ্যের কোনও শিক্ষক বা কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যুক্ত থাকতে পারবেন না। 

সমগ্র প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করবেন প্রশাসনিক আমলারা। এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের প্রতিনিধি, রাজ্যের চার শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকেরা। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, রাজ্যে থমকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে শুরু করা হবে।

নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ রাখতেই এই সিদ্ধান্ত বলে নবান্ন সূত্রে খবর। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখন থেকে সব রকম সরকারি নিয়োগের দায়িত্বে থাকবেন আইএএস অফিসারেরা। 

সেই সূত্রেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে পশ্চিমবঙ্গ সেন্ট্রাল স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান পদে আনা হয়েছে। সোমবারই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। উল্লেখ্য, মুখ্যসচিবের পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর তাঁকে দিল্লির রেসিডেন্ট কমিশনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এবার স্কুল সার্ভিসের জট কাটাতে তাঁর ওপরেই ভরসা রাখল রাজ্য।

শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, নতুন সরকার মেধা এবং স্বচ্ছতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। একই সঙ্গে তফসিলি জাতি (SC), তফসিলি জনজাতি (ST) এবং ওবিসি (OBC) সংরক্ষণ নীতি ও রোস্টার কঠোরভাবে মেনে চলা হবে। 

ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চলমান মামলার রায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বেরোনোর সম্ভাবনা রয়েছে। আইনি জট কাটলেই যে ৬ হাজার প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা (ইন্টারভিউ) বাকি রয়েছে, তা দ্রুত সম্পন্ন করে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে।

বিগত সরকারের আমলের তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আগের সরকারের দুর্নীতি ও ওবিসি সংরক্ষণের ত্রুটিপূর্ণ নীতির কারণেই রাজ্যে দীর্ঘদিন নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল।" তবে বর্তমান বিজেপি সরকার ইতিমধ্যেই বিধানসভায় ওবিসি সংক্রান্ত ত্রুটি সংশোধন করে বিল পাস করেছে। ফলে মেধার ভিত্তিতে যুবসমাজের চাকরি পাওয়ার পথ এবার আরও মসৃণ হবে বলেই দাবি সরকারের।